1. live@bntv24live.com : BN TV 24LIVE : BN TV 24LIVE
  2. info@www.bntv24live.com : BN TV 24LIVE :
শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০২:৪০ পূর্বাহ্ন

টানা পাঁচ দিনের বর্ষণে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬
  • ২২ বার পড়া হয়েছে
28

মোঃ ফখরুল মোস্তফা নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

জোয়ারের পানির সঙ্গে ভারী বৃষ্টির পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক জলাবদ্ধতা। এতে উপজেলার অন্তত অর্ধলক্ষ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। কৃষিজমি, বসতভিটা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট ও হাট বাজার তলিয়ে যাওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন।

চুলা ডুবে যাওয়ায় অনেক পরিবার রান্না করতে পারছে না, ক্ষতির মুখে পড়েছে আমনের বীজতলা ও মাছের ঘের। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা দুর্বল থাকায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

উপজেলার নিঝুমদ্বীপ, সোনাদিয়া, বুডিরচর, হরনী, চানন্দী, সুখচর, নলচিরা ও জাহাজমারা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল এবং পৌরসভার প্রায় সব ওয়ার্ডেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও বাড়ির আঙিনা, কোথাও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আবার কোথাও কাঁচা-পাকা সড়ক ও হাট বাজার পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক এলাকায় ঘরবাড়িতে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে থাকায় মানুষ কার্যত ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা। অনেক পরিবারের রান্নার চুলা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় খাবার রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। নিরাপদ খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। গ্রামীণ সড়কে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হতে পারছেন না।
টানা বৃষ্টিতে সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। বিস্তীর্ণ এলাকার আমনের বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক মাছের ঘের ও পুকুর উপচে মাছ ভেসে গেছে। কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত পানি না নামলে আমন মৌসুমের চাষাবাদ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
জাহাজমারা ইউনিয়নের বাসিন্দা জাহেদ হোসেন বলেন, মাত্র কয়েকদিন আগেও যেখানে গরু, ছাগল ও মহিষ চরত, সেখানে এখন নৌকা চালিয়ে চলাচল করছে গ্রামের ছেলেরা। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে বাড়ির চারপাশে পানি জমে আছে। অনেকের ঘরে পানি ঢুকে গেছে। চুলা ডুবে যাওয়ায় রান্না করা যাচ্ছে না। ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে।
নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার পুরো বীজতলা পানির নিচে। পুকুরের মাছও ভেসে গেছে। এখন নতুন করে চাষাবাদ কীভাবে করব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।
পৌরসভা ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিলকিস আরা রহমান বলেন, বাড়ির উঠান থেকে রান্নাঘর পর্যন্ত সব জায়গায় পানি। চুলা ডুবে যাওয়ায় রান্নাবান্না করতে পারছিনা। শিশুদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়াও সম্ভব হচ্ছে না।
রাজের হাওলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবির বলেন, টানা বৃষ্টিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেক সড়ক হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে গেছে, আবার কোথাও কাদামাটির কারণে চলাচল অত্যন্ত কষ্টকর।
ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা ভিজে ও কাদামাখা পথ পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে আসছে। অনেক অভিভাবক সন্তানদের নিরাপত্তার কথা ভেবে বিদ্যালয়ে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। নারী শিক্ষকদেরও বৃষ্টিতে ভিজে বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে হচ্ছে।
সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি জুয়েল বলেন, হাতিয়ার ছোট-বড় প্রায় সব খালেই বেহুন্দী জাল বসানো রয়েছে। ফলে বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশিত হতে পারছে না। এছাড়া উপজেলার প্রায় ২০টি সুইসগেটের অধিকাংশের ডালা বন্ধ থাকায় পানি নামার পথও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত বেহুন্দী জাল অপসারণ, সুইসগেটগুলো সচল করা এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা শহরে মার্টিন খালের উপর অপরিকল্পিত ভাবে দোকান ঘর ও মার্কেট নির্মাণ করাতে পৌরসভার ছয়টি ওয়ার্ডে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় হাতিয়ার অধিকাংশ এলাকায় প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। খাল ভরাট, অপরিকল্পিত বাঁধ এবং দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে থাকে। এবার টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। উপকূলীয় এলাকায় নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এতে হাতিয়ার জলাবদ্ধতা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
দ্বীপবাসীর দাবি, প্রতি বছর একই ধরনের দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি হলেও জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ত্রাণ সহায়তা এবং কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে সরকারি প্রণোদনা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রাসেল ইকবাল বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উপজেলার ২৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। অনেক জায়গায় শুকনো খাবার ও সরকারি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। হাতিয়া নদীবেষ্টিত একটি দ্বীপ উপজেলা।
কয়েকটি এলাকায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা দুর্বল থাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে অধিকাংশ এলাকার পানি ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!