
আগস্ট-সেপ্টেম্বরে তফসিল ঘোষণার পরিকল্পনা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়েই শুরু হতে পারে ভোটযজ্ঞ
স্টাফ রিপোর্টার:
স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনি আচরণবিধি হালনাগাদ, মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ এবং কর্মপরিকল্পনা (রোডম্যাপ) তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী আগস্ট-সেপ্টেম্বরে তফসিল ঘোষণা করে অক্টোবর থেকেই শুরু হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ও পৌরসভা নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে, ৩৩০টি পৌরসভার নির্বাচন একদিনে নাকি কয়েক ধাপে হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কমিশনের প্রাথমিক আলোচনা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। মাঠপর্যায়ের সব তথ্য কমিশনের হাতে এসেছে এবং অক্টোবরকে সামনে রেখেই প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে।
তিনি বলেন, “আমরা অক্টোবরকে টার্গেট ধরে কাজ করছি। মাঠপর্যায়ের তথ্য পেয়েছি। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ২০২৬ ও ২০২৭ সালের অধিকাংশ নির্বাচনই আয়োজন করা সম্ভব। সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, বন্যা বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে ইউনিয়ন পরিষদ অথবা পৌরসভা—যেকোনো একটি নির্বাচন দিয়েই ভোট কার্যক্রম শুরু হতে পারে।
বর্তমানে দেশে নির্বাচন উপযোগী রয়েছে ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ৩৩০টি পৌরসভা, ৬১টি জেলা পরিষদ এবং ১৩টি সিটি করপোরেশন। এসব প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদের তথ্য ইতোমধ্যে সংগ্রহ করেছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচনকে সামনে রেখে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের জন্য পৃথক আচরণবিধির খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দল, অংশীজন ও সংশ্লিষ্টদের মতামত গ্রহণের কার্যক্রমও শেষ হয়েছে। বর্তমানে প্রাপ্ত মতামতগুলো পর্যালোচনা করছেন ইসির কর্মকর্তারা।
এদিকে সংসদে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্ষা মৌসুম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পরীক্ষা, ভৌগোলিক বাস্তবতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ চূড়ান্ত করা হবে। মধ্য আগস্টের মধ্যে সরকারের সঙ্গে বৈঠক শেষে কোন নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আগের মতো ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত হতে পারে। আর পৌরসভা নির্বাচন একদিনে আয়োজনের বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। কমিশনের মতে, ৩৩০টি পৌরসভার নির্বাচন একদিনে আয়োজন করা অসম্ভব নয়।