
মোঃ ফখরুল মোস্তফা নোয়াখালি জেলা প্রতিনিধি
নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ‘শফিউল আলম আধুনিক হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-এ ভুল চিকিৎসা ও দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে কাকলি রানি দাস (২৬) নামে এক প্রসূতির মর্মান্তিক মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। তবে অস্ত্রোপচারে জন্ম নেওয়া নবজাতক পুত্র সন্তানটি জীবিত ও সুস্থ রয়েছে।
নিহত কাকলি রানি দাস ৬ নম্বর চরকিং ইউনিয়নের দাসপাড়ার বিশিষ্ট কীর্তনশিল্পী রতন বাবুর বড় পুত্রবধূ এবং ‘পাটুলদার’ সহধর্মিণী।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুলাই প্রসূতির প্রসববেদনা উঠলে প্রথমে স্থানীয় ক্লিনিক এবং পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী জেলা সদরে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ ওঠে, জেলা সদরে নেওয়ার পথে হাসপাতালটির এক দালালের খপ্পরে পড়েন তারা। দালাল চক্রের আশ্বাসে প্রসূতিকে শফিউল আলম হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সিজারিয়ানের মাধ্যমে পুত্র সন্তান জন্ম নেয়।
এরপরই রোগীর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। অবস্থা বেগতিক দেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে পরিবারের কাছ থেকে একটি ‘হাই রিস্ক বন্ড’-এ স্বাক্ষর করিয়ে নেয় এবং নোয়াখালী সদরে রেফার করে। পরে নোয়াখালীর মাইজদীর একটি হাসপাতালে পৌঁছালে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্বামী পাটুল দাস কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “হাসপাতালের মিথ্যা আশ্বাস ও দালালের খপ্পরে পড়ে আমার স্ত্রীর অকাল মৃত্যু হয়েছে।” তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।