
ভিডিও কলে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সময় ঢাকার টঙ্গীতে গলায় ফাঁস; অভিযোগ অস্বীকার করলেও অন্য এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কের কথা স্বীকার স্ত্রীর
সোহেল রায়হান, (পিরোজপুর)
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ও একটি বায়িং হাউসের কর্মী সজল দেউড়ী (৩২) দাম্পত্য কলহ ও মানসিক অশান্তির জেরে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে পরকীয়া এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্ত্রী রঞ্জিতা, যদিও অন্য এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক থাকার কথা তিনি স্বীকার করেছেন।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) ঢাকার টঙ্গীর একটি ভাড়া বাসা থেকে সজল তার স্ত্রীর মোবাইল ফোনে ভিডিও কল দেন। কল চলাকালীন সময়েই তিনি ঘরের ফ্যানের সঙ্গে গামছা বেঁধে আত্মহত্যা করেন। পরে বাড়ির মালিক ও স্থানীয় লোকজন দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে টঙ্গী থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
নিহতের মা লক্ষী দেউড়ী অভিযোগ করেন, ভিডিও কলে কথা বলার সময় রঞ্জিতা তার ছেলেকে বিভিন্ন উস্কানিমূলক কথা বলেন, যা তাকে মানসিকভাবে আরও ভেঙে দেয়। তার ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরেই রঞ্জিতা সজলের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন, প্রায়ই তাকে ‘মরে যেতে’ বলতেন এবং পারিবারিক কলহ সৃষ্টি করতেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, রঞ্জিতা একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন এবং প্রতিবেশী এক যুবকের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।
নিহতের ছোট ভাই সুজিত দেউড়ী বলেন, “ভাবি সারাক্ষণ মোবাইল, ফেসবুক ও টিকটকে ব্যস্ত থাকতেন। বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। এসব বিষয় নিয়ে আমাদের পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছিল।”
স্থানীয় গ্রাম পুলিশ সদস্য দীপেন্দ্র জানান, সজল ঢাকায় একটি বায়িং হাউসে কাটিং মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পারিবারিক অশান্তি ও দাম্পত্য সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন বলে স্থানীয়দের মধ্যে এমন আলোচনা রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দাও দাবি করেন, রঞ্জিতার চলাফেরা নিয়ে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের আলোচনা ছিল। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পরিবারের অভিযোগ, সজলের মৃত্যুর পর রঞ্জিতার মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলা হয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন। অন্যদিকে, সজলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন টঙ্গী থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
এ বিষয়ে রঞ্জিতা তার বিরুদ্ধে আনা আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও অন্যান্য অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে প্রতিবেশী শোভন নামে এক যুবকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে স্বীকার করেন।
জানা গেছে, সজল দেউড়ী নেছারাবাদ উপজেলার ১ নম্বর বলদিয়া ইউনিয়নের কাটাপিটানিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং স্বপন দেউড়ীর ছেলে। প্রায় আট বছর আগে ভালোবেসে রঞ্জিতাকে বিয়ে করেন তিনি। তাদের সংসারে ছয় বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, “এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”