
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আলোচিত জঙ্গল সলিমপুরে সরকার কারাগার স্থাপন করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আজ রোববার (৩১ মে) দুপুর ১১টায় সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে রাষ্ট্রে যেই দুর্বৃত্তায়ন চলেছিল সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর তারই উৎকৃষ্ট উদাহরণ। এখানে আর সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হতে দেওয়া হবে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, জঙ্গল সলিমপুর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হলেও তথ্য ফাঁসের কারণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়নি। সন্ত্রাসীরা সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পাহারা বসিয়ে আধিপত্য বিস্তার করেছিল৷ তবে আমরা সেগুলো ভেঙে দিয়েছি।
রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করার মতে দু:সাহস রাস্তা কেটে ফেলা, ফাঁড়িতে হামলার মতো ঘটনার সাথে কারা জড়িত এবং কারা জঙ্গল সলিমপুরের জমি দখলের সাথে জড়িত আমরা তাদেরকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছি।
সীতাকুণ্ড, হাটহাজারী এবং চট্টগ্রাম শহরসহ কিভাবে জঙ্গল সলিমপুরের সাথে রোড় নেটওয়ার্ক স্থাপন করা যায় আমরা সে বিষয়ে কাজ করছি। র্যাব, বিজিবি, পুলিশ এবং সেনানিবাস কিভাবে স্থাপন করা যায় আমরা সেটি পরিকল্পনা করছি। এখানে যারা কোন না কোনভাবে অস্থায়ীভাবে বসতি গড়ে তুলতে বাধ্য হয়েছে তাদেরকে কিভাবে পুনবার্সন করা যায় সেটি পরিকল্পনা করব৷ তাদেরকে এখান থেকে আপাতত উচ্ছেদ করা হবে না। কেউ যদি তাদেরকে নানা ভয়-ভীতি দেখিয়ে উচ্ছেদ করতে চায় তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা জনগণের সরকার, জনগণকে কমপোর্ট দেওয়ার জন্য আমরা আসছি। এখানে সরকারি খাস জমিতে বায়েজিদের পাশে কারাগার ভবন গড়ে তোলার অনুমোদন অনেক আগেই দেয়া হয়েছে, সেটি কিভাবে বাস্তবায়ন করা যায় আমরা ভাবছি।
এছাড়া, বায়েজিদ লিংকের আশপাশে খাস জমিতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের ঝুলে থাকা প্রকল্পটি প্রশাসনিক অনুমোদনের আলোকে দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জঙ্গল সলিমপুরের পাশাপাশি অপরাধপ্রবণ বেতুয়া ও চা বাগান এলাকা থেকেও সন্ত্রাসীদের চিরতরে নির্মূল করা হবে।
জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশে ‘আইনের শাসন’ প্রতিষ্ঠা করতে গণমাধ্যমকর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন মন্ত্রী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন -ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রামের সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএমসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।