1. live@bntv24live.com : BN TV 24LIVE : BN TV 24LIVE
  2. info@www.bntv24live.com : BN TV 24LIVE :
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৮ পূর্বাহ্ন

ইতালির স্বপ্ন, লিবিয়ার টর্চার সেল: মনোহরগঞ্জের ৬ যুবক জিম্মি, দেড় কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি

প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে
33

 মো. সাখাওয়াত হোসেন

দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে মুক্তি এবং পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে ইতালির উদ্দেশে দেশ ছেড়েছিলেন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ছয় তরুণ। কিন্তু ইউরোপে নতুন জীবনের সেই স্বপ্ন থেমে যায় লিবিয়ার মরুভূমিতে। ইতালিতে পৌঁছানোর আগেই তারা আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়ে বর্তমানে একটি গোপন নির্যাতনকেন্দ্রে (টর্চার সেল) বন্দি রয়েছেন। তাদের মুক্তির বিনিময়ে দাবি করা হয়েছে দেড় কোটি টাকা মুক্তিপণ। দাবি আদায়ে প্রতিদিনই চালানো হচ্ছে নির্মম শারীরিক নির্যাতন, আর সেই নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে পরিবারগুলোর ওপর সৃষ্টি করা হচ্ছে চরম মানসিক চাপ।

জিম্মি হওয়া ছয় যুবক হলেন—মনোহরগঞ্জ উপজেলার খিলা ইউনিয়নের দিশাবন্দ গ্রামের শাহাদাত হোসেন (২০), মানিকুল ইসলাম (২০), মো. সোহেল (২৭), তাজ মোহাম্মদ (২৫), ফয়সাল (২০) এবং লক্ষণপুর ইউনিয়নের বেতিয়াপাড়া গ্রামের মেহেদী হাসান (২১)

জনপ্রতি ১৮–২০ লাখ টাকায় ইতালি পাঠানোর চুক্তি

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে জনপ্রতি ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা দিয়ে ইতালিতে পাঠানোর চুক্তি করা হয়। কিন্তু লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের মানবপাচারকারী চক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়। দীর্ঘ প্রায় আট মাস আটকে রাখার পর সম্প্রতি তাদের আরও একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বর্তমানে একটি গোপন আস্তানায় আটকে রেখে প্রত্যেকের জন্য ২৫ লাখ টাকা, অর্থাৎ মোট দেড় কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে।

“নির্যাতনের ভিডিও দেখে বাঁচার ইচ্ছাও হারিয়ে ফেলেছি”

মানিকুল ইসলামের বাবা মাহবুবুর রহমান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, দিশাবন্দ গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে মানিকের মাধ্যমে তার ভাই সামছুল আলম ইতালিতে পাঠানোর আশ্বাস দেন। সেই আশ্বাসে ২০ লাখ টাকা দেওয়ার পরও ছেলে ইতালিতে যেতে পারেনি। বরং লিবিয়ায় নিয়ে মানবপাচারকারী চক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এখন প্রতিদিন নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে মুক্তিপণের টাকা দাবি করা হচ্ছে।

একই অভিযোগ করেন সোহেলের বাবা হারুনুর রশিদ। তিনি জানান, প্রায় আট মাস আগে ১৮ লাখ টাকা দিয়ে ছেলেকে বিদেশে পাঠান। কিন্তু ইতালির বদলে লিবিয়ায় পৌঁছে সেও দালালচক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ে। বর্তমানে তার ওপরও অমানবিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

ইমো-হোয়াটসঅ্যাপে নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে চাপ

পরিবারগুলোর দাবি, দালালচক্র ইমো ও হোয়াটসঅ্যাপে নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে দ্রুত টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দিচ্ছে। ভিডিওতে ছেলেদের আর্তনাদ ও নির্মম নির্যাতনের দৃশ্য দেখে পরিবারগুলো চরম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্যাতনের ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর অভিযুক্ত দালাল সামছুল আলম ও তার পরিবারের সদস্যরা গত ১০ থেকে ১২ দিন ধরে আত্মগোপনে রয়েছেন। অন্যদিকে লিবিয়ায় অবস্থানরত মূল দালাল মানিকের সঙ্গেও এখন আর কোনো যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা

জিম্মি ছয় যুবককে জীবিত ও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করেছে। পাশাপাশি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছে তারা।

এ বিষয়ে মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদ আহমেদ বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

দ্রুত উদ্ধার ও মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা দাবি

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান চালিয়ে জড়িতদের গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত এবং লিবিয়ায় জিম্মি থাকা ছয় যুবককে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের জরুরি কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!