
ছত্রখিল এলাকায় কফি শপ নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধ; বড় ভাই তানজিরও গ্রেপ্তার, জড়িত অন্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত
কুমিল্লা নগরীর কোতয়ালী মডেল থানাধীন ছত্রখিল এলাকায় যুবদল নেতা কাউসার হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল অভিযুক্ত তৌহিদকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) ও থানা পুলিশের যৌথ দল। একই ঘটনায় তার আপন বড় ভাই তানজিরকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ছত্রখিল এলাকায় উপজেলা মডেল মসজিদের বিপরীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন একটি জায়গায় কফি শপ নির্মাণের কাজকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
ওই জায়গাটি নিয়ে তৌহিদ ও তার বড় ভাই তানজিরের সঙ্গে কাপ্তানবাজারের কাউসার ও শামীমের বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন তৌহিদ, তানজিরসহ আরও কয়েকজন সেখানে কফি শপ নির্মাণের কাজ করছিলেন। এ সময় কাউসার, শামীমসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার একপর্যায়ে তৌহিদ তার হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কাউসারকে গুরুতর জখম করেন। এ সময় অন্যরাও তাকে মারধর করেন। হামলায় অটোরিকশাচালক মাসুমও আহত হন। পরে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। গুরুতর আহত কাউসারকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকালে তৌহিদ তার বড় ভাই তানজিরকে ফোন করে আরও কয়েকজনকে দেশীয় অস্ত্রসহ ঘটনাস্থলে আসতে বলেন। কফি শপ নির্মাণের কাজ করতে গেলে কাউসার ও শামীম বাধা দিতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকেই তারা আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন বলে পুলিশের প্রাথমিক তথ্যে উঠে এসেছে।
হত্যাকাণ্ডের পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় ১৭ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের নূরপুর এলাকা থেকে তৌহিদকে গ্রেপ্তার করে ডিবি ও থানা পুলিশের যৌথ দল। তার বড় ভাই তানজিরকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তৌহিদের বিরুদ্ধে এর আগে হত্যা মামলাসহ মোট সাতটি মামলা বিচারাধীন বা তদন্তাধীন রয়েছে। তার বড় ভাই তানজিরের বিরুদ্ধেও একটি মামলা বিচারাধীন বা তদন্তাধীন রয়েছে।
যুবদল নেতা কাউসার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য যাচাইয়ে পুলিশের কার্যক্রম অব্য