
মোঃ ফখরুল মোস্তফা, নোয়াখালী
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার উপকূলীয় অঞ্চলে তীব্র নদীভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। মেঘনা নদীতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলাচলকারী দেশি-বিদেশি তেলের ট্যাংকার ও ভারী জাহাজের সৃষ্ট শক্তিশালী ঢেউয়ের কারণে তীরবর্তী এলাকা দ্রুত ভেঙে পড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
বিশেষ করে ‘কুলহারা দুই চর’ এলাকায় নদীভাঙন চরম আকার ধারণ করেছে। একের পর এক বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় ভিটেমাটিহারা হয়ে পড়ছেন বহু পরিবার। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এই ভাঙনে হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগ ও মানবিক সংকটের মধ্যে রয়েছেন।
নদীভাঙন ঠেকাতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। তাদের অভিযোগ, ভারী জাহাজ ও তেলের ট্যাংকার চলাচলের সময় সৃষ্ট ঢেউ ভাঙনের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় সংসদ সদস্য কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দ্রুত ব্লক বাঁধ নির্মাণসহ ভাঙন প্রতিরোধে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হাতিয়ার নৌপথ ব্যবহার করে চট্টগ্রাম বন্দরগামী সব জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে।
দ্বীপবাসীর অস্তিত্ব রক্ষা ও নদীভাঙন প্রতিরোধে এমন কঠোর অবস্থানের ঘোষণায় হাতিয়াজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলে বসতভিটা, কৃষিজমি ও মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষা করতে হবে।
নদীভাঙন রোধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।