
আসন্ন দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে কুমিল্লার বিভিন্ন বাজার ও বিপণিবিতানে সক্রিয় হয়ে ওঠা একটি আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৫ নারী সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ১৩টি চোরাই মোবাইল ফোন ও চোরাই মালামাল বিক্রির নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উৎসবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন শহর ও বাজার এলাকায় ছদ্মবেশে চোর চক্রের সদস্যরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। কেনাকাটা করতে আসা মানুষের ভিড়কে কাজে লাগিয়ে তারা মোবাইল ফোন, টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে দ্রুত ভিড়ের মধ্যে মিশে যায়।
পুলিশের দাবি, এসব চক্র পূর্বপরিকল্পিতভাবে কোনো একটি এলাকায় কয়েকদিনের জন্য বাসা ভাড়া নিয়ে অবস্থান করে। পরে সম্ভাব্য টার্গেট নির্ধারণ করে সুযোগ বুঝে চুরি করে অন্যত্র চলে যায়।
আসন্ন দুর্গাপূজায় সাধারণ মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে কেনাকাটা করতে পারেন, সে লক্ষ্যে কুমিল্লা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি।
এরই ধারাবাহিকতায় জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি বিশেষ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, মুরাদনগর থানার কোম্পানিগঞ্জ এলাকায় একটি চোর চক্র অবস্থান করছে। পরে তথ্যের সত্যতা যাচাই করে সেখানে অভিযান চালায় ডিবির বিশেষ দল।
অভিযানে আন্তঃজেলা চোর চক্রের সক্রিয় ৫ নারী সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় চুরি হওয়া ১৩টি মোবাইল ফোন এবং চোরাই মালামাল বিক্রির নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—
১. সরলা আক্তার (৪২), পিতা-জমত আলী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
২. এলেনা বেগম ওরফে হেলেনা (৪৫), পিতা-নূর মিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
৩. বেদনা খাতুন (২৯), পিতা-জলফু ভান্ডারী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
৪. খাদিজা আক্তার (২০), পিতা-নূর মিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
৫. ফাহিমা আক্তার (১৯), পিতা-আরব আলী, হবিগঞ্জ।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধানে গ্রেপ্তার নারীদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন এলাকায় চুরি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে একাধিক মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব মামলার বিস্তারিত তথ্য যাচাই করছে পুলিশ।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, আসন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী যেকোনো চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।