নীলফামারীর ডোমার-ডিমলা উপজেলার নাউতারা নদীর ওপর জরাজীর্ণ কাঠের সাঁকো পরিদর্শনে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা। সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তারের সামনেই সাঁকোর একটি অংশ ভেঙে কয়েকজন নদীতে পড়ে যান। এ ঘটনায় অন্তত দুজন আহত হয়েছেন।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের নাটাবাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাউতারা নদীর ওপর দীর্ঘদিন ধরে কোনো স্থায়ী সেতু না থাকায় নাটাবাড়ীসহ আশপাশের এলাকার মানুষের নদী পারাপারে একমাত্র ভরসা স্থানীয়দের তৈরি কাঠের সাঁকোটি। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে সাঁকোটির বিভিন্ন অংশ জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা নিজেদের অর্থায়নে সাঁকোটি নির্মাণ করেন।
বুধবার সকালে নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সাঁকোটি পরিদর্শনে যান। তিনি সাঁকোর ওপর ওঠার পর তাঁর সঙ্গে কয়েকজন নেতাকর্মীও ওঠেন। একপর্যায়ে অতিরিক্ত চাপ ও জরাজীর্ণ কাঠের কারণে সাঁকোটির পেছনের একটি অংশ ভেঙে যায়।
এ সময় কয়েকজন নেতাকর্মী নিচে নাউতারা নদীতে পড়ে যান। পরে স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় কয়েকজনের জামাকাপড় ছিঁড়ে যায় এবং অন্তত দুজন আহত হন। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
নাউতারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক ইমতিয়াজ মোর্শেদ বলেন, সাঁকোটি স্থানীয়রা নিজেদের অর্থায়নে তৈরি করেছেন। সংসদ সদস্য সেটি পরিদর্শনে গেলে তাঁর সঙ্গে অনেকেই সাঁকোটিতে ওঠেন। হঠাৎ সাঁকোটি ভেঙে কয়েকজন নিচে পড়ে যান।
সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার বলেন, এলাকাবাসী নিজেদের অর্থায়নে কাঠের সাঁকোটি তৈরি করেছেন। নেতাকর্মীদের নিয়ে সেটি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন তিনি। সাঁকোটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সবাই ওঠার পর পেছনের অংশ ভেঙে পড়ে। এতে কয়েকজন পড়ে গিয়ে জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলেন এবং দুজন আহত হন।
তিনি আরও বলেন, নাউতারা নদীর ওপর সরকারি অর্থায়নে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।