
স্টাফ রিপোর্টার:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন পৃথক দুইটি ঘটনায় ভয়াবহ সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার উপজেলার ভলাকুট ও বুড়িশ্বর ইউনিয়নের পৃথক স্থানে এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে উভয় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাগুলোর পর পুরো এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে ঈদের নামাজ শেষে ভলাকুট ইউনিয়নের বালিখোলা গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. তৈয়ব মিয়ার ছেলে আনোয়ার হোসেন ওষুধ কিনতে গেলে সাবেক ইউপি সদস্য বাচ্চু মিয়ার ছেলে মজনু মিয়ার সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়।
প্রায় তিন মাস আগের একটি হুমকিমূলক মেসেজকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই কথাকাটাকাটি দ্রুতই সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে বাচ্চু মিয়ার পক্ষের ইকরাম মিয়া, রুবেল মিয়া, কাপতান মিয়া, মফিজ মিয়া, আরিফ মিয়া, জসিম মিয়া, আলমগীর মিয়া, ফরসু মিয়া, গিয়াস উদ্দিন, আয়ুব আলী, খেলু মিয়া, ইউনুস মিয়া, হামিম মিয়া, ইমন মিয়া, রিফাত মিয়া, জহিরুল মিয়া, ছেনু মিয়া, তৈয়ব মিয়া, রফিজ আলী, ইসব আলী, খাজা আলম, জাহাঙ্গীর মিয়া, কালন মিয়া, আক্কাস আলী ও ইয়াসিন মিয়ার নাম জানা গেছে। অপর পক্ষের আহতদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। সংঘর্ষের পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
একইদিন সন্ধ্যায় বুড়িশ্বর ইউনিয়নের শ্রীঘর গ্রামে চোর সন্দেহে এক যুবককে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরেক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মুকুল সরকারের বাড়িতে ঈদের দাওয়াতের কথা বলে ৬০ ঘর পাড়ার যুবক আমিন মিয়াকে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়।
পরে কৌশলে তার মাধ্যমে ইব্রাহিম নামের আরেক যুবককে ডেকে এনে তাকেও বেঁধে নির্যাতন করা হয়। খবর পেয়ে তাদের স্বজনরা উদ্ধার করতে গেলে হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন।
গুরুতর আহত নিজাম উদ্দিনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম ছুটিতে থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে থানার এসআই মো. সোহেল জানান, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।