1. live@bntv24live.com : BN TV 24LIVE : BN TV 24LIVE
  2. info@www.bntv24live.com : BN TV 24LIVE :
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০১:০৪ পূর্বাহ্ন

হাওরে এক মাস মাছ ধরা বন্ধ, প্রণোদনা ছাড়াই মানবেতর জীবন কাটাল হাজারো জেলে পরিবার

প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬
  • ২১ বার পড়া হয়েছে
অনলাইন
30

অনলাইন ডেক্স 

 

আগামী ২৮ জুন শেষ হচ্ছে হাওরে এক মাসব্যাপী মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা। ২৯ জুন থেকে আবারও মাছ ধরতে পারবেন জেলেরা। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার পুরো এক মাস সরকারি নির্দেশনা মেনে কর্মবিরতিতে থাকলেও ক্ষতিগ্রস্ত জেলে পরিবারগুলোর ভাগ্যে জোটেনি কোনো সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা। প্রণোদনা দেওয়ার আশ্বাসেই কেটে গেছে পুরো সময়। ফলে নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলের হাজারো জেলে পরিবার মানবেতর জীবন কাটিয়েছে।

এ বছর পাহাড়ি ঢল ও অকাল বন্যায় হাওরাঞ্চলের একমাত্র ফসল বোরো ধান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষক-জেলে পরিবারগুলোর শেষ ভরসা ছিল হাওরের দেশীয় মাছ। কিন্তু মাছের প্রজনন মৌসুম রক্ষায় সরকার এক মাসের জন্য মাছ ধরা নিষিদ্ধ করায় তাদের আয়ের পথও বন্ধ হয়ে যায়। এতে অনেক পরিবার ঋণ করে সংসার চালিয়েছে, আবার কেউ কেউ খাবার ও সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ জোগাতেই হিমশিম খেয়েছেন।

সরকার চলতি বছর প্রথমবারের মতো নদী ও সমুদ্রের আদলে হাওরেও ২৯ মে থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত (১৫ জ্যৈষ্ঠ থেকে ১৪ আষাঢ়) এক মাস মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এ বিষয়ে ২০ এপ্রিল গেজেট প্রকাশ করা হয়। এর আগে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে। ‘প্রোটেকশন অ্যান্ড কনজারভেশন অব ফিস অ্যাক্ট, ১৯৫০’ অনুযায়ী ‘প্রোটেকশন অ্যান্ড কনজারভেশন অব ফিস রুলস, ১৯৮৫’-এ সংশোধন এনে এই বিধান যুক্ত করা হয়।

দেশের অন্যতম বৃহৎ মৎস্যভান্ডার নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলেও এবারই প্রথম এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান, খাদ্য সহায়তা কিংবা নগদ প্রণোদনার ব্যবস্থা না থাকায় শুরু থেকেই অসন্তোষ দেখা দেয়।
হাওরপাড়ের জেলেরা জানান, প্রতিদিন মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করেই তাদের সংসার চলে। অধিকাংশ পরিবারের অন্য কোনো আয়ের উৎস নেই। ফলে এক মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকায় অনেকেই ধারদেনা করে সংসার চালিয়েছেন। কারও কারও সন্তানদের লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে, আবার প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও করাতে পারেননি অনেক পরিবার।

জেলেদের ভাষ্য, সরকার যদি মাছের প্রজনন রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা দেয়, তাহলে তাদের জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল। নদী ও সমুদ্রের জেলেদের মতো হাওরের জেলেরাও প্রণোদনা পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে হাওরাঞ্চলে এবার বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতির কারণে অনেক প্রান্তিক কৃষকও বর্ষা মৌসুমে মাছ ধরে পরিবারের খাদ্য ও দৈনন্দিন খরচ মেটানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কারণে কৃষক ও জেলে—উভয় শ্রেণির মানুষই আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনা সদরসহ জেলার ছয় উপজেলায় নিবন্ধিত জেলে পরিবারের সংখ্যা ৪৯ হাজার ৩৯৩ টি । তাদের বড় একটি অংশ হাওরের দেশীয় মাছের ওপর নির্ভরশীল।

নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগ বিভিন্ন হাট-বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন টানানো, মাইকিং এবং সীমিত আকারে অভিযান পরিচালনা করেছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সচেতনতামূলক প্রচারণা থাকলেও জেলেদের জীবন-জীবিকার বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি।

মোহনগঞ্জ উপজেলার তেতুলিয়া গ্রামের জেলে রহিম মিয়া জানান, পেটের দায়ে কেউ কেউ ঝুঁকি নিয়ে গোপনে মাছ শিকারে বাধ্য হয়েছেন। কারণ পরিবারের সদস্যদের না খাইয়ে আইন মানা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা বার্সিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী ওয়াহেদুর রহমান মনে করেন, বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা ও খাদ্য সহায়তা ছাড়া শুধু নিষেধাজ্ঞা দিয়ে মাছের প্রজনন রক্ষা করা কঠিন হবে। তারা ভবিষ্যতে জেলেদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালুর দাবি জানান।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা হারুন অর রশীদ বলেন, “দেশীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এবার প্রথম হাওরে এক মাস মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর ফলে আগামীতে প্রায় ৪০ শতাংশ দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।”

জেলে পরিবারকে প্রণোদনার বিষয়ে তিনি বলেন, “এ বছর হয়তো ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের কোনো প্রণোদনা দেওয়া সম্ভব হবে না। তবে আগামীতে অবশ্যই তাদের প্রণোদনার আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।”

তিনি আরও জানান, নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে নদ-নদী, বিল ও হাওরের উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ শিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

হাওরবাসীর প্রশ্ন, মাছের প্রজনন রক্ষা যেমন জরুরি, তেমনি সেই মাছ রক্ষার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কর্মহীন হয়ে পড়া হাজারো জেলে পরিবারের জীবন-জীবিকার দায়িত্বও কি রাষ্ট্রের নয়? আগামী বছর নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের আগে প্রণোদনা ও বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

সুত্র সময়ের কণ্ঠস্বর

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!