
মোঃ আমিনুল ইসলামঃ
দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের স্থিতিশীলতা, শ্রমিকদের কল্যাণ এবং জাতীয় অর্থনীতির অগ্রযাত্রায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে অঙ্গীকারবদ্ধ স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপ। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে পোশাকশিল্পে সৃষ্ট শ্রমিক অসন্তোষ ও অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে কিছু গণমাধ্যমে আন্দোলনে অর্থায়ন ও জনবল দিয়ে সহায়তাকারী সন্দেহভাজন প্রতিষ্ঠানের তালিকায় স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রুপ কর্তৃপক্ষ এ ধরনের অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বলে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের বক্তব্য অনুযায়ী, শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়ন, উসকানি প্রদান কিংবা শিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টির কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বরং চলমান অস্থিরতার কারণে প্রতিষ্ঠানটি নিজেই বড় ধরনের ব্যবসায়িক ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া এবং নির্ধারিত সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহ করতে না পারায় রপ্তানি আয়, ব্যবসায়িক সুনাম ও ভবিষ্যৎ কার্যাদেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
১৯৮৩ সালে যাত্রা শুরু করা স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপ বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশে দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। দেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের অবস্থান সুদৃঢ় করতে প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রপ্তানিমুখী শিল্পগোষ্ঠী হিসেবে দেশি-বিদেশি বাজারে সুনামের সঙ্গে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম প্রধান শক্তি হলো এর দক্ষ জনবল, শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং দায়িত্বশীল শিল্প পরিচালনা। স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপ সবসময় শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, নিয়মিত বেতন-ভাতা এবং কর্মপরিবেশের গুরুত্বকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা এবং শিল্পের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখাকে প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসায়িক দায়িত্বের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে বিবেচনা করে।
এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি দেশের প্রচলিত আইন, শ্রম আইন, সরকারি বিধিবিধান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। নিয়মিত রাজস্ব ও কর প্রদান, বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রেখে চলেছে।
স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপ মনে করে, শ্রমিক ও মালিকপক্ষ একে অপরের প্রতিপক্ষ নয়; বরং দেশের শিল্প ও অর্থনীতির অগ্রযাত্রায় উভয় পক্ষই পরস্পরের পরিপূরক। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি, মালিকপক্ষের সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের মূল্য ও ক্রয়নীতি এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে একটি যৌক্তিক ও টেকসই সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ তৈরি পোশাকশিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বজায় রাখা সম্ভব না হলে শেষ পর্যন্ত শ্রমিক, উদ্যোক্তা এবং জাতীয় অর্থনীতি—সব পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বর্তমান বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার বাজারে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে শিল্পে অস্থিরতা, উৎপাদন বন্ধ, সরবরাহ ব্যাহত হওয়া কিংবা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়া কারও জন্যই কল্যাণকর নয়। বিশেষ করে দেশের রপ্তানি আয়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, লাখ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান এবং তাদের পরিবারের জীবন-জীবিকার স্বার্থে শিল্পের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপ সকল শ্রমিক, উদ্যোক্তা, ক্রেতা, সরকার এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে চলমান সংকটের শান্তিপূর্ণ ও টেকসই সমাধান প্রত্যাশা করে। একই সঙ্গে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার স্বার্থে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানায়।
স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের মূল অঙ্গীকার—শ্রমিকের অধিকার সুরক্ষা, শিল্পের স্থিতিশীলতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অব্যাহত অবদান।