
মোঃ আমিনুল ইসলাম:
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া মোবারক হোসেনের (৭৫) জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) তাঁর নিজ এলাকা শাকপুর ইউনিয়নের চৌওরী ফকির বাড়িতে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তবে জানাজায় পরিবারের কোনো সদস্য উপস্থিত ছিলেন না।
এর আগে শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে একটি কমিউনিটি ক্লিনিকের পেছনে বাঁশঝাড় থেকে মোবারক হোসেনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলে একটি ছুরিও পাওয়া যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন মোবারক হোসেন। পরদিন সকালে স্থানীয় শিশুরা বাঁশঝাড়ে তাঁর মরদেহ দেখতে পায়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
এদিকে, মোবারক হোসেনের স্ত্রী, ছেলে শহীদুল্লাহ ও পুত্রবধূকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। তাঁরা বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
বরুড়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) সঞ্জয় সরকার বলেন, “মোবারক হোসেনের স্ত্রী, ছেলে ও ছেলের বউকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। তাঁরা আমাদের হেফাজতে আছেন।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোবারক হোসেনের দুই ছেলে—তোফাজ্জল ও শহীদুল্লাহ। তোফাজ্জল দেশের বাইরে থাকেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, শহীদুল্লাহ কিছুদিন পরপর তাঁর বাবাকে মারধর করতেন। এ ছাড়া মোবারক হোসেনের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর দীর্ঘদিন ধরে কথা বলা বন্ধ ছিল এবং তাঁরা আলাদা থাকতেন বলেও জানা গেছে।
তবে মোবারক হোসেনের হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে। তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।