
মোঃ ফখরুল মোস্তফা নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি
দুপুরের একটু পরে, নিয়মানুযায়ী বিদ্যালয়ের ছুঠির সময় তখনও হয়নি। কিন্তু রাস্তা জুড়ে ছাত্র-ছাত্রীদের বাড়ি যেতে দেখে গাড়ি থামান ইউএনও। কাছে গিয়ে প্রশ্ন করলে চতুথ শ্রেণীর এক ছাত্রী তাদের জোরপূর্বক ছুঠি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেণ।
গাড়ি থেকে নেমে অন্যান্য শিক্ষার্থীর সাথে কথা বললে আসে আরো অনিয়মরে অভিযোগ। তারা সরকারি নির্ধারিত ছুটির সময়ের আগেই শিক্ষার্থীদের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া, নিয়মিত ক্লাস না নেওয়া, ক্লাস চলাকালে ঘুমানো ও মোবাইলে ফেসবুক দেখা এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবালের কাছে। ঘটনাটি ঘটেছে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাজের হাওলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
পরে শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে বিদ্যালয়ে যান ইউএনও। কাউকে না পেয়ে মোবাইলে কথা বলার চেষ্টা করেন শিক্ষকদের সাথে । বিষয়টি তাৎক্ষনিক উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবিহিত করেন তিনি।
পরে বই খাতা হাতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সাথে নিয়ে একটি ছবি তুলে নিজের ফেইসবুকে পোষ্ট করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল। তাতে তিনি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে তার কাছে করা শিক্ষাথৃীদের অভিযোগের বিষয়টি উল্লেখ করেন। মহুর্তে ভাইরাল হয় ছবিটি। সমালোচনার ঝড় উঠে।
জানা গেছে, রোববার(১৬আগষ্ট) চরঈশ্বর ইউনিয়নের কয়েকটি রাস্তার উন্নয়নকাজ পরিদর্শনে যান ইউএনও রাসেল ইকবাল। এ সময় দক্ষিণ রাজের হাওলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের একটি সড়ক পরিদর্শন যাচ্ছিলেন তিনি। তাতে অনেক শিক্ষাথৃীকে বাড়ি যেতে দেখে গাড়ি থামান তিনি।
শিক্ষার্থীরা কোথায় যাচ্ছে জানতে চাইলে তারা জানায়, তাদের ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রায়ই তাদের ছুটি দিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করে তারা। এ সময় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে না আসা, উপস্থিত থাকলেও নিয়মিত ক্লাস না নেওয়া, ক্লাস চলাকালে ঘুমানো ও মোবাইলে ফেসবুক দেখায় ব্যস্ত থাকাসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকদের অশোভন আচরণের অভিযোগও করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “আমাদের ছেলে-মেয়েরা জানিয়েছে, শিক্ষকরা তাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন, বিষয়টি নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজল রানী পাল বলেন, “পরদিন থেকে বিদ্যালয়ে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। তাই শিক্ষার্থীরা আগে ছুটি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিল। তাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই নির্ধারিত সময়ের একটু আগে তাদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। তবে আমার কয়েকজন সহকারী শিক্ষকের ক্লাস ফাঁকি দেওয়া, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আগেই অবহিত করেছি। বিষয়টি নিয়ে তদন্তও হয়েছে। কিন্তু এরপরও তারা নিজেদের আচরণে পরিবর্তন আনেননি।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল বলেন, “নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে আমি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ পরিদর্শনে বের হয়েছিলাম। ওই বিদ্যালয়ের সামনেও একটি রাস্তা ছিল। সেখানে যাওয়ার পর ছাত্রছাত্রীরা আমার সঙ্গে কথা বলার জন্য দাঁড়িয়েছিল। তখন তাদের অভিযোগগুলো শুনি। পরে তাদের নিয়ে আবার বিদ্যালয়ে গিয়ে কোনো শিক্ষককে পাইনি। বিষয়টি আমি শিক্ষা কর্মকর্তা ও তাঁদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।”
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন, “অনিয়মের বিষয়ে আমরা অবহিত হয়েছি। ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। কৈফিয়ত পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”