হাতিয়ায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হামলার পৃথক দুটি মামলা; গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত মোঃ ফখরুল মোস্তফা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি: নোয়াখালীর হাতিয়ায় আপন মামাতো বোনকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে সাকিব উদ্দিন (২২) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের পর ভুক্তভোগীর পরিবারের ওপর হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও উঠেছে অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। শনিবার (২৭ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন। অভিযুক্ত সাকিব উদ্দিন উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য সোনাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। ভুক্তভোগী কিশোরী সম্পর্কে তিনি আপন মামাতো বোন। মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা...
42
হাতিয়ায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হামলার পৃথক দুটি মামলা; গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত
মোঃ ফখরুল মোস্তফা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর হাতিয়ায় আপন মামাতো বোনকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে সাকিব উদ্দিন (২২) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের পর ভুক্তভোগীর পরিবারের ওপর হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও উঠেছে অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে।
শনিবার (২৭ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন।
অভিযুক্ত সাকিব উদ্দিন উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য সোনাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। ভুক্তভোগী কিশোরী সম্পর্কে তিনি আপন মামাতো বোন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে বসবাস করছে। গত ২ জুন তারা গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসে। ৫ জুন বিকেলে কিশোরী তার এক খালাতো বোনকে সঙ্গে নিয়ে বড় বোনের শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে অভিযুক্ত সাকিব জোরপূর্বক তাকে মোটরসাইকেলে তুলে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে ভুক্তভোগীর সঙ্গে থাকা খালাতো বোন বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালে তারা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে অভিযুক্তের বাড়ি থেকে কিশোরীকে অবরুদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগীর বাবা জানান, ঘটনার পর তিনি অভিযুক্তের পরিবার ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিচার চাইলেও কোনো প্রতিকার পাননি। পরে বাধ্য হয়ে হাতিয়া থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
পরিবারের অভিযোগ, মামলা করার পর থেকেই অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যরা তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৬ জুন অভিযুক্তের পরিবারের সদস্য ও বহিরাগত কয়েকজন তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় ভুক্তভোগীর বাবা-মা, জ্যাঠা-জ্যাঠি এবং শিশুসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য আহত হন। পরে তারা চিকিৎসা নেন এবং হামলার ঘটনায় পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, অভিযুক্ত সাকিব দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় উচ্ছৃঙ্খল আচরণের জন্য পরিচিত। এর আগেও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছিল। তবে প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না। তবে এ অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাকিব উদ্দিনের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, “ধর্ষণের ঘটনায় একটি এবং পরবর্তীতে হামলার ঘটনায় পৃথক আরেকটি মামলা নেওয়া হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
উল্লেখ্য, অভিযোগগুলো বর্তমানে তদন্তাধীন। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।