নিজস্ব প্রতিবেদক:
অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়েছে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দান। ছয় মাস পর ১৩টি দানবাক্স খুলে গণনা শেষে এবার পাওয়া গেছে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা, যা মসজিদের ইতিহাসে একক দানবাক্স খোলায় সর্বোচ্চ সংগ্রহ।
শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টায় প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এবার ১৩টি দানবাক্স থেকে রেকর্ড ৪৩ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। সকাল ৯টার দিকে টাকা গণনার কাজ শুরু হয়ে রাত পৌনে ৯টা পর্যন্ত চলে।
জেলা প্রশাসন ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটি গণনা শেষে মোট প্রাপ্ত অর্থের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে, সাধারণত প্রতি তিন থেকে চার মাস পর পর পাগলা মসজিদের দানবাক্স খোলা হলেও এবার প্রায় ছয় মাস পর খোলা হয়েছে। ফলে আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা হয়েছে। নগদ অর্থের পাশাপাশি দানবাক্সে পাওয়া গেছে স্বর্ণালংকার, বৈদেশিক মুদ্রা এবং বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী।
দানবাক্স খোলার সময় জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মারুফসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এবার টাকা গণনার কাজে রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ মোট ৫৯০ জন অংশ নেন।
এর আগে, গত ২৭ ডিসেম্বর সর্বশেষ দানবাক্স খোলা হয়েছিল। তখন ১৩টি সিন্দুক থেকে ৩৫ বস্তা টাকা পাওয়া যায় এবং গণনা শেষে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা। সেই সময়ও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার হয়েছিল।
দানবাক্স খোলার পর আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন জানান, সর্বশেষ দানবাক্স খোলার আগ পর্যন্ত পাগলা মসজিদের ১১৪ কোটি ১৩ লাখ ৭ হাজার ৩৫২ টাকা রূপালী ব্যাংক লিমিটেডে জমা রয়েছে। এছাড়া উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকার ও বৈদেশিক মুদ্রা সিলগালাকৃত অবস্থায় জেলা ট্রেজারিতে সংরক্ষিত আছে।
তিনি আরও জানান, দানবাক্সের পাশাপাশি অনলাইনেও দান গ্রহণ করা হয়। এ পর্যন্ত অনলাইনের মাধ্যমে ২৪ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮২ টাকা জমা হয়েছে।
পাগলা মসজিদে দেশ-বিদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের এই বিপুল দান আবারও প্রমাণ করল, এটি দেশের অন্যতম আস্থার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।