
মোঃ আমিনুল ইসলামঃ
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার সরাফতি (দাধারপাড়) গ্রামে ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত জমির যাতায়াতের পথ বেড়া দিয়ে দখলের পর রোপণকৃত গাছ কেটে ফেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি পক্ষের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবার দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াতের পথ হারিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এমনকি পিতার মৃত্যুর পর মরদেহ নিয়ে বের হওয়ার মতো পথও পাননি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মো. সুমন।
স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিগত ৭ বছর পূর্বে সরাফতি গ্রামের বাসিন্দা মো. সুমনের পিতা ওয়ারিশসূত্রে ৭ শতক জমির মালিক হন। উক্ত জমির মধ্য থেকে ২ শতক জমি যাতায়াতের রাস্তার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। তবে অভিযোগ উঠেছে, এলাকার বাসিন্দা নাজমুল (৩৬), বাবুল (৪০), দিলেরা বেগম (৫০), শামছুন নাহার (৩৮) ও নাছিমা বেগম (৪৩) জোরপূর্বক সেই ২ শতক জমিতে বেড়া দিয়ে রাস্তাটি দখল করে রাখেন। এর ফলে ভুক্তভোগী পরিবারটি বর্তমানে অন্য একটি বাড়ির ওপর দিয়ে পেছনের সরু পথ ব্যবহার করে কোনোমতে যাতায়াত করছে।
পূর্বে এ বিষয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। বৈঠকে জমিটি যাতায়াতের রাস্তার জন্য উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত হলেও বিবাদী পক্ষ তা অমান্য করে রাস্তা বন্ধই রাখে।
ঘটনার ধারাবাহিকতায় ভুক্তভোগী মো. সুমন জানান, গত ২ আগস্ট তিনি তাঁর বসতবাড়ির ৫ শতক জমির দুই পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করেন। গত ১২ আগস্ট দুপুর আনুমানিক ৩:৩০ মিনিটের দিকে তাঁর অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে বিবাদীগণ জোরপূর্বক সেই রোপণকৃত গাছগুলো কেটে ফেলে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে।
ভুক্তভোগী সুমন বলেন, “আমার বাবার মৃত্যুর পর লাশ নিয়ে বের হওয়ার মতো রাস্তা পর্যন্ত আমরা পাইনি। অন্য বাড়ির ওপর দিয়ে কষ্ট করে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এখন নতুন করে রোপণ করা গাছগুলোও কেটে ফেলা হয়েছে। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।” এ বিষয়ে তিনি সুবিচার চেয়ে বরুড়া থানায় লিখিত আবেদন করেছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সর্দার অহিদুল ইসলাম জানান, “ঘটনাটি সমাধানের জন্য আমরা কয়েকবার বসে চেষ্টা করেছি। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব হয়নি।”
এদিকে ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত পক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা কোনো ধরনের বক্তব্য দিতে রাজি হননি।