
(কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের ছোট চাঁদপুর গ্রামে তিন শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার পলাতক আসামি মকবুল হোসেনের (৪০) গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় গ্রামবাসী।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেল ৪টায় ছোট চাঁদপুর গ্রামে আয়োজিত মানববন্ধনে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী গ্রামবাসী অংশ নেন। এ সময় বক্তারা বলেন, শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত এ ধরনের জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তারা অভিযোগ করেন, মামলার পরও অভিযুক্ত পলাতক থাকায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এর আগে, ১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে লাকসাম থানায় এ ঘটনায় একটি মামলা (মামলা নম্বর-১০) দায়ের করা হয়। এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুলাই সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে ছোট চাঁদপুর গ্রামের একটি বসতঘরে অভিযুক্ত মকবুল হোসেন তিন শিশুকে যৌন নিপীড়নের উদ্দেশ্যে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়া, জোরপূর্বক চুম্বন করা এবং যৌনাঙ্গে স্পর্শ করার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী তিন শিশু হলো—চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মমতাজ আক্তার (১১), প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল আক্তার মাওয়া (৭) এবং একই শ্রেণির শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তার (৬)।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এর আগেও অনৈতিক আচরণের অভিযোগ ছিল, তবে ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাননি। একজন গ্রামবাসী অভিযোগ করেন, পারিবারিক কারণেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে এবং তার স্ত্রীর দায়ের করা একটি মামলাও বিচারাধীন।
মামলার বাদী ও এক ভুক্তভোগী শিশুর পিতা কাউসার অভিযোগ করেন, “আমার মেয়ের এত বড় ক্ষতি করার পর উল্টো আমার বিরুদ্ধে চুরির মিথ্যা অভিযোগ এনে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। বিভিন্ন লোক দিয়ে আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে। ঘর থেকে বের হলে মুখ বাঁধা কিছু লোক আমাকে অনুসরণ করে। আমি এখন নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কিত। গরিব বলে কি আমার মেয়ের যৌন নিপীড়নের বিচার পাব না?”
অভিযুক্ত মকবুল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, এটি তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক ও মিথ্যা মামলা। তার ভাষ্য, তালাকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার সাবেক স্ত্রী ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন।
এ বিষয়ে লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী কামরুন্নাহার লাইলী বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। পলাতক আসামিকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
মানববন্ধন শেষে গ্রামবাসী দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেফতার, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারকে নিরাপত্তা প্রদান এবং শিশুদের সুরক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।