
মো. জহির হোসেন বরুড়া
তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর আওতায় আবেদন করার পরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সরকারি দপ্তরের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং তথ্য অধিকার আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
প্রাপ্ত নথি থেকে জানা যায়, বরুড়া উপজেলার বাসিন্দা ও সাংবাদিক মো. জহির হোসেন গত ২০ মে ২০২৬ তারিখে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) বরাবর তথ্য অধিকার আইনের আওতায় একটি লিখিত আবেদন জমা দেন।
আবেদনে তিনি বরুড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কর্মরত এমবিবিএস চিকিৎসকদের নামের তালিকা, কর্মস্থল এবং দায়িত্ব পালনের তথ্য জানতে চান। আবেদনপত্রে তথ্যগুলো ছাপানো কপির মাধ্যমে সরবরাহের অনুরোধ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, আবেদনটি গ্রহণ করা হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো তথ্য সরবরাহ করা হয়নি। এমনকি তথ্য প্রদান না করার কারণ সম্পর্কেও আবেদনকারীকে কোনো লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। আবেদন জমা দেওয়ার এক মাসেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী, সরকারি কোনো দপ্তরে তথ্য চেয়ে আবেদন করলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য প্রদান অথবা তথ্য দিতে অপারগ হলে তার কারণ লিখিতভাবে জানানো বাধ্যতামূলক। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও কোনো সাড়া না পাওয়ায় আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন নাগরিকরা।
স্থানীয়দের মতে, সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মরত চিকিৎসকদের তথ্য জনগণের জন্য উন্মুক্ত থাকা প্রয়োজন। এতে চিকিৎসকদের উপস্থিতি, দায়িত্ব পালন এবং সেবার মান সম্পর্কে জনগণ অবগত হতে পারে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে বিষয়টি সম্পর্কে কুমিল্লা জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন রেজা মো. সারোয়ার আকবরকে অবগত করা হলে তিনি বলেন, “তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য না পেলে পরবর্তী ধাপে সিভিল সার্জনের কাছে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। আবেদনকারীকে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।”
আইন সংশ্লিষ্টদের মতে, তথ্য অধিকার আইনের আবেদন উপেক্ষা করা বা অযৌক্তিকভাবে তথ্য গোপন করা আইনের চেতনার পরিপন্থী। আইন অনুযায়ী, কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যথাযথ কারণ ছাড়া তথ্য প্রদান না করলে বা আবেদনকারীর তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার বাধাগ্রস্ত করলে তার বিরুদ্ধে তথ্য কমিশনে অভিযোগ বা আপিল করা যেতে পারে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগও রয়েছে।
সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের মতে, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে তথ্য প্রদানে বিলম্ব বা অনীহা সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন করে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে তথ্য গোপন বা বিলম্বিত হলে জনমনে নানা সন্দেহ ও প্রশ্নের জন্ম নেয়।
সচেতন মহলের দাবি, তথ্য অধিকার আইনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আবেদনকারীর চাহিদাকৃত তথ্য দ্রুত সরবরাহ করতে হবে। একই সঙ্গে কেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য দেওয়া হয়নি, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। অন্যথায় জনগণের তথ্য জানার সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিয়েও প্রশ্ন থেকেই যাবে।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা হোক এবং তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।