
ডেক্স রিপোর্ট
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে তথ্য সংগ্রহে গেলে একাধিক গণমাধ্যম কর্মীর সঙ্গে অশোভন ও অপমানজনক আচরণের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি দাউদকান্দি দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম তালুকদার, যিনি প্রায় ১৮ বছর ধরে এ কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাংবাদিকরা জানান, তথ্য সংগ্রহের জন্য উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারের অনুমতি নিয়ে তার খাস কামরায় প্রবেশ করে কথা বলছিলেন তারা। ঠিক সে সময় বিনা অনুমতিতে হঠাৎ করেই আব্দুল কাইয়ুম তালুকদার প্রবেশ করে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন। এসময় তিনি তথ্য সংগ্রহে বাধা সৃষ্টি করেন এবং পরিস্থিতি উত্তেজনাকর করে তোলেন।
ঘটনার সময় সাব-রেজিস্ট্রার কক্ষে উপস্থিত থাকলেও তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তেমন কোন উদ্যোগ নেননি। বরং পুরো ঘটনায় তিনি প্রায় নীরব ভূমিকা পালন করেন। এতে সাংবাদিক ও সেবাগ্রহীতারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং অফিসের সার্বিক পরিবেশ নষ্ট হয়।
স্থানীয় কয়েকজন নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, তার ১৮ বছরের দাপটে এখানে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। তার আশপাশে কয়েকজন বখাটে ও মামলাবাজকে ধরে রাখে—হামলা-মামলার ভয় দেখিয়ে সবাইকে চুপ করিয়ে রাখে।
গণমাধ্যম কর্মীরা বলেন— সরকারি দপ্তরে তথ্য সংগ্রহ জনগণের অধিকার। এটি গণমাধ্যম স্বাধীনতার মৌলিক অংশ। অথচ একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির এমন আচরণ সরকারি সেবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
ঘটনার পর টাইমস নিউজের সম্পাদক ও প্রকাশক মো. আবু বকর সিদ্দিক এবং ( BNTV ) বাংলাদেশ ন্যাশনাল টিভি অনলাইন নিউজ এর সম্পাদক ও প্রকাশক মো. জহির হোসেন সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে জানতে চান—এ ঘটনায় কোন ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না? কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রার দায়িত্ব এড়িয়ে দলিল লেখকের কাছে অভিযোগ পাঠিয়ে দেন এবং বলেন—“সমিতি ব্যবস্থা নেবে।”
সাংবাদিকদের মতে, এতেই পরিষ্কার হয়েছে— সাব-রেজিস্ট্রার নিজেই দলিল লেখক সমিতির কয়েকজন প্রভাবশালীর কাছে কার্যত ‘বন্দী’।
রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের প্রধান যখন জবাবদিহিহীন, অসহায় বা প্রভাবাধীন অবস্থায় থাকেন, তখন পুরো সেবা ব্যবস্থাই প্রশ্নের মুখে পড়ে। দাউদকান্দিতে দীর্ঘদিন ধরে দলিল লেখক সমিতির নাম করে আর্থিক লেনদেন, প্রতারণা, সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি ও নানা অনিয়ম চলে আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
সাংবাদিক সমাজ দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, এ অফিসে আর্থিক অনিয়ম, দালাল চক্র ও দুর্নীতির আরও বিস্তৃত তথ্য আমাদের দ্বিতীয় পর্বে প্রকাশ করা হবে।