1. live@bntv24live.com : BN TV 24LIVE : BN TV 24LIVE
  2. info@www.bntv24live.com : BN TV 24LIVE :
রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৯ অপরাহ্ন

৫ বছরের দাম্পত্যের করুণ পরিণতি: আত্মহত্যা নয়, হত্যার দাবি পরিবারের”

প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে
17

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার সূচীপাড়া উত্তর ইউনিয়নের সূচীপাড়া পশ্চিম পাড়া রব ভূঁইয়া বাড়ির আব্দুর রহিমের স্ত্রী আঁখি আলমগীর মীম (২৫) গত বুধবার (৮ এপ্রিল ২০২৬) ঢাকার মিরপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।

তবে এই মৃত্যুকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, যখন মীমের আত্মহত্যার একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ও নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।

মীমের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যা। রোববার (১২ এপ্রিল) সাংবাদিকদের কাছে মীমের বাবা আলমগীর হোসেন বলেন,
“আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি, তাকে হত্যা করা হয়েছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, প্রায় এক মাস আগে মীমকে নিয়ে তার স্বামী ঢাকায় বসবাস শুরু করেন এবং বিভিন্ন সময় তাকে মারধর করতেন। এমনকি হত্যার পর জানালার সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে তিনি জানান, মেয়ের মৃত্যুর খবর পরিবারকে না জানিয়ে গোপনে মরদেহ এলাকায় এনে দাফন করা হয়। পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত হলে তাদের উপর হামলার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে, মীমের মা মনি বেগমও তার মেয়ের হত্যার বিচার দাবি করেছেন।

অন্যদিকে, শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। মীমের শাশুড়ি পারভিন বেগম বলেন, পারিবারিক ও অর্থনৈতিক বিরোধ ছিল। বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নেওয়াকে কেন্দ্র করে দাম্পত্য জীবনে অশান্তি তৈরি হয়। তবে তিনি দাবি করেন, তার ছেলে মীমকে ভালোবাসতেন।

মীমের স্বামী আব্দুর রহিম মুঠোফোনে জানান, শ্বশুরের ঋণের চাপ এবং পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে তাদের মধ্যে সমস্যা চলছিল। তার দাবি, আত্মহত্যার কয়েকদিন আগে মীম অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন করেছিলেন এবং ঘটনাটিও আত্মহত্যা।

জানা গেছে, ঘটনার পর মীমকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় মিরপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

আরও জানা যায়, মীমের শোয়ার ঘরে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা ছিল। তবে আত্মহত্যার আগের ও পরের কিছু ফুটেজ পাওয়া গেলেও ঘটনার মূল মুহূর্তের ভিডিও অনুপস্থিত, যা রহস্য আরও ঘনীভূত করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

শাহরাস্তি মডেল থানার ওসি মীর মাহবুবুর রহমান বলেন,
“ঘটনাটি মিরপুর থানার আওতাধীন হলেও আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছি। দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় আত্মহত্যার বিষয়টি রহস্যজনক মনে হয়েছে।”

উল্লেখ্য, মীমের তিন বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। এই মৃত্যুর ঘটনায় এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি, আর ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে একটি পরিবার।

সুত্র চাঁদপুর টাইমস

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!