
রেশমা চৌধুরী ( অনুসন্ধানী প্রতিবেদন
ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের মেঘনা নদীতে সরকারের অনুমোদিত ড্রেজিং কাজকে কেন্দ্র করে গত ১৫ নভেম্বর যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে তা নিয়ে বাড়ছে উত্তেজনা, প্রশ্ন আর বিতর্ক। ঘটনাটির নেপথ্য অনুসন্ধানে জানা যাচ্ছে—এটি আদৌ সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ ছিল কি না, নাকি পরিকল্পিত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই ড্রেজার শ্রমিকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছিল।
নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার যে ড্রেজিং প্রকল্প হাতে নিয়েছে তার আওতায় কয়েকটি কোম্পানি ইজারা পায়। এরই অংশ হিসেবে কাজ করছিলেন দৈনিক দক্ষিণের অপরাধ সংবাদ–এর প্রধান উপদেষ্টা ও জেলা শ্রমিক পার্টির সভাপতি আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন চকেট বৈধ ইজারাকৃত ড্রেজার।
প্রতিদিনের মতো ড্রেজিং চলছিল। সেই সময় ট্রলারযোগে ৪০–৫০ জন ব্যক্তির একটি দল ড্রেজারের কাছে পৌঁছে কর্মরত শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করে দিতে বলে। পরে শুরু হয় উত্তেজনা, বাকবিতণ্ডা। এক পর্যায়ে শ্রমিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়—ফলে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।
অনুসন্ধানে যা উঠে এসেছে: ‘এরা সাধারণ মানুষ নয়’
ঘটনাস্থলে গিয়ে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া তথ্য অনুসারে—
“সাধারণ এলাকাবাসীর” নামে যারা হামলায় অংশ নেয়, তারা মূলত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সক্রিয় নেতা–কর্মী।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি—“এটি পরিকল্পিত, সংঘর্ষ ঘটাতে সংগঠিত দল পাঠানো হয়েছিল।” একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এ হামলার নেতৃত্বে ছিলেন একজন প্রভাবশালী উপজেলা বিএনপি নেতা।
ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষায় দেখা গেছে—যারা নিজেদের সাধারণ জনগণ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছিলেন তাদের অনেকেই ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির বিভিন্ন পদে থেকে রাজনীতিতে সক্রিয়। তাদের নাম–পরিচয় প্রতিবেদকের হাতে আছে, তবে নিরাপত্তার স্বার্থে প্রকাশ করা হলো না।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান—
“কেউই সাধারণ এলাকা বাসী ছিল না। তারা সবাই রাজনৈতিক দলের লোক। এটাকে জনগণের প্রতিবাদ সাজানো হয়েছে মাত্র।”
১ নভেম্বর ভোলা জেলা জাতীয় পার্টি (বিজেপি)–র সমাবেশে হামলার ঘটনা এখনো তাজা। স্থানীয়দের দাবি—এই দুই হামলা একই সূত্রে বাঁধা।
ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ভোলা–১ আসনে নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই তার অনুসারীদের ওপর ধারাবাহিক চাপ ও সাবোটাজের চেষ্টার অভিযোগ উঠছে।
বিজেপির একটি অংশ মনে করছে—
জামাল উদ্দিন চকেটকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করতে, তাকে টার্গেট করেই ড্রেজার শ্রমিকদের ওপর এই হামলা পরিচালিত হয়েছে।
দৈনিক দক্ষিণের অপরাধ সংবাদের উপদেষ্টা আলহাজ্ব জামাল উদ্দিনের পক্ষ থেকে বলা হয়—তারা সরকারের অনুমোদিত ইজারা নিয়ে বৈধভাবে কাজ করছিলেন। তারপরও হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও কিছু মহল থেকে—
অবৈধ বালু উত্তোলন”
এমন শব্দ ছড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
দৈনিক দক্ষিণের অপরাধ সংবাদের সারা বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে রাষ্ট্রীয় অনুমোদনপ্রাপ্ত একজন ইজারাদারকে কীভাবে অবৈধ বলা হয়? এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে চালানো প্রচারণা।”
স্থানীয়দের প্রশ্ন: প্রকল্পে আপত্তি থাকলে আবেদন কোথায়?
কাচিয়া ইউনিয়নের একাধিক প্রবীণ নাগরিক বলেন—
যদি ড্রেজিং সত্যিই এলাকাবাসীর ক্ষতি করে, তবে অভিযোগ করা উচিত ছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। কিন্তু তারা সরাসরি হামলা করলো কেন?”
যার ফলে ধারণা জোরদার হয়েছে—
এটি জনগণের স্বার্থের আন্দোলন নয়, বরং বিশেষ একটি গোষ্ঠীর রাজনৈতিক হিসাব–নিকাশ।
জামাল উদ্দিনের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে—
তিনি জনকল্যাণমূলক কাজ করেন
গরিব–অসহায় শ্রমিকদের সবসময় পাশে থাকেন
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তাকে ‘হাওয়ায় উড়িয়ে দেওয়ার’ চেষ্টা করছে
তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র,ও পরিকল্পিত নাটক সাজিয়ে মামলার মামলা দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে,
তারা দাবি করেন—
এই হামলা ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত।আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন জামালের ড্রেজার অবৈধ নয়, বরং হামলাটাই ছিল অবৈধ।”
এলাকার সচেতন মহল প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে, যাতে—
হামলার নির্দেশদাতাদের শনাক্ত করা যায়
সরকারি প্রকল্পে নাশকতার উদ্দেশ্য বেরিয়ে আসে, দোষীদের আইনের আওতায় আনা হয়
ভোলা মেঘনার ড্রেজিংকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া ঘটনা শুধু একটি শ্রমিক–হামলা নয়—এটির গভীরে রয়েছে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, প্রভাব বিস্তার ও ইমেজ নষ্টের কৌশল।
সত্য উদঘাটনেই বেরিয়ে আসবে এর আসল চিত্র।
এদিকে আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন জামালের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সারা বাংলাদেশে মানববন্ধনের ডাক দিয়েছেন দৈনিক দক্ষিণের অপরাধ সংবাদ।