
মোঃ ফখরুল মোস্তফা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি।
ভাসানচরের মালিকানা নিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত আমরা মানি না। একটি প্রশাসনিক চিঠির মাধ্যমে ভাসানচরের ছয়টি মৌজাকে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার অন্তর্ভুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত শুধু হাতিয়াবাসীর প্রত্যাশার বিরুদ্ধে নয়, বরং পূর্ববর্তী গেজেট, জরিপ, খতিয়ান ও বাস্তব প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণকে উপেক্ষা করার শামিল।
ভাসানচর নিয়ে হাতিয়ার অবস্থান ছিল স্পষ্ট ও নথিভুক্ত। দিয়ারা জরিপে নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের নামে খতিয়ান, একাধিক সরকারি গেজেট, ভাসানচর থানা গঠন এবং হাতিয়া উপজেলা থেকেই দীর্ঘদিন প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা—এসব কোনো কল্পকথা নয়, রাষ্ট্রীয় বাস্তবতা। সেসব বাস্তবতাকে পাশ কাটিয়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়।
আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই—
ভাসানচরের দাবি থেকে হাতিয়াবাসী একচুলও পিছপা হবে না।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চলবে। প্রয়োজনে সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত যাওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। এটি আবেগের বিষয় নয়; এটি হাতিয়ার ভূখণ্ড, অধিকার ও ন্যায্যতার প্রশ্ন।
“ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত- ভাসানচর সন্দ্বীপের অংশ”
এই শিরোনামে বিভিন্ন মিডিয়ায় খবর প্রকাশের পর হাতিয়াবাসীর ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিশেষ করে ফেসবুকজুড়ে অভিমানের তীর ছুটে গেছে এনসিপি নেতা আবদুল হান্নান মাসউদের দিকে। কারণ সম্প্রতি হাতিয়ার জন্য আসা প্রায় সব সরকারি সুযোগ-সুবিধার একক কৃতিত্ব তিনি নিজেই দাবি করে আসছেন।
হাতিয়ার সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—
শুধু কৃতিত্ব নেবেন, ব্যর্থতার দায় নেবেন না?
যদি সব কিছুই আপনার হাতেই হয়, তবে ভাসানচরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে এই পরিণতি কেন?
নাকি ‘সব আমি করেছি’—এই বক্তব্য আজ মিথ্যা প্রমাণিত হলো?
এই প্রশ্ন কোনো ব্যক্তি আক্রমণ নয়; এটি জবাবদিহির দাবি। নেতৃত্ব মানে শুধু সাফল্যের প্রচার নয়, সংকটে দায় নেওয়ার সাহসও থাকতে হয়।
আমরা আবারও স্পষ্ট করে বলতে চাই—হাতিয়াবাসী কোনো বিশৃঙ্খলা চায় না। কিন্তু অন্যায় সিদ্ধান্তও নিঃশব্দে মেনে নেবে না। আইন, যুক্তি ও নথির ভিত্তিতেই এই লড়াই চলবে।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো ঐক্য। দল-মত, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা ব্যক্তিগত অবস্থানের ঊর্ধ্বে উঠে হাতিয়ার ভূখণ্ড রক্ষায় এক কাতারে দাঁড়ানো।
হাতিয়ার সর্বস্তরের সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, আইনজীবী, সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকদের প্রতি আমাদের উদাত্ত আহ্বান—সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিন। এটি কোনো একক ব্যক্তি বা সংগঠনের লড়াই নয়; এটি পুরো হাতিয়ার অস্তিত্বের লড়াই।
ভাসানচর হাতিয়ার ইতিহাস, অধিকার ও ভবিষ্যতের অংশ।
ভাসানচর হাতিয়ার ছিল, আছে এবং থাকবে।