মোঃ আমিনুল ইসলামঃ
কুমিল্লার বরুড়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জিনসার এলাকায় প্রায় অর্ধশত বছর ধরে ব্যবহৃত একটি চলাচলের পথ বন্ধ করে মসজিদের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে একটি পরিবারের স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা সাহেব আলী।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্তদের দাবি, ওই পরিবারের বিকল্প চলাচলের পথ রয়েছে এবং মসজিদের জায়গার সীমানা নির্ধারণ করেই প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে।
গত ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দাখিল করা লিখিত অভিযোগে সাহেব আলী উল্লেখ করেন, তিনি বরুড়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জিনসার এলাকার উম্মত আলী হাজীর বাড়ির বাসিন্দা। তাঁদের বাড়ির মসজিদের পূর্ব পাশ দিয়ে অবস্থিত একটি পথ তাঁর পরিবারের সদস্যরা প্রায় ৫০ বছর ধরে চলাচলের একমাত্র রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে কোনো বাধা ছাড়াই ওই পথ দিয়ে যাতায়াত করতেন তাঁরা।
অভিযোগে বলা হয়, গত ২৩ অক্টোবর কোনো আলোচনা কিংবা বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা না করেই পথটি বন্ধ করে পাকা সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়। এতে পরিবারের সদস্যদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এ নিয়ে প্রতিবাদ জানালে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন সাহেব আলী।
লিখিত অভিযোগে দেলোয়ার হোসেন (৪৫), আবু হানিফা নোমান (৪৫) ও হাজী মোহাম্মদ আলী (৭০)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত আবু হানিফা নোমান বলেন, সাহেব আলীর পরিবারের চলাচলের পথ বন্ধ করা হয়নি; তাঁদের বিকল্প রাস্তা রয়েছে। মসজিদের নিজস্ব জায়গার সীমানা নির্ধারণ করে মসজিদ কমিটি সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করেছে। প্রাচীর নির্মাণের সময় সাহেব আলী তাঁদের কাছে রাস্তার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কোনো আবেদন করেননি বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে সমাধানের জন্য সমাজের সর্দার তাজুল ইসলামের কাছে সালিশের আবেদন করা যেতে পারে। সর্দার উদ্যোগ নিলে মসজিদ কমিটির সদস্যরাও আলোচনায় বসতে পারেন। তবে ইউএনও কার্যালয় থেকে নোটিশ দেওয়া হলে তাঁরা সেখানে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন।
এ বিষয়ে সমাজের সর্দার তাজুল ইসলাম বলেন, জায়গাটি মসজিদের এবং সেখানে সরকারি কোনো রাস্তা নেই। তাঁর দাবি, সাহেব আলীর পরিবার কিছুদিন ওই পথ দিয়ে চলাচল করলেও মসজিদের পশ্চিম পাশে বিকল্প রাস্তা রয়েছে এবং বর্তমানে তাঁরা সেটি ব্যবহার করছেন। এ বিষয়ে কেউ তাঁর কাছে অভিযোগ বা সালিশের আবেদন নিয়ে আসেননি বলেও জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান রনি বলেন, “আমি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সরেজমিনে খোঁজখবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সাহেব আলী তাঁর পরিবারের দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত চলাচলের পথ পুনরায় উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগটি সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। এক পক্ষের দাবি, পথটি তাঁদের পরিবারের দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত চলাচলের একমাত্র মাধ্যম; অন্য পক্ষের বক্তব্য, জায়গাটি মসজিদের এবং বিকল্প রাস্তা রয়েছে। ফলে পথটির প্রকৃত মালিকানা, দীর্ঘদিনের ব্যবহার, বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থার বাস্তবতা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অধিকার যাচাই করে প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান এখন প্রত্যাশিত।
সম্পাদক : মোঃ জহির , উপদেষ্টা : জসিম উদ্দিন খোকন ,বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ: ফোন: 𝟎𝟏𝟔𝟐𝟗𝟏𝟎𝟎𝟗𝟐𝟔
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন বিভাগ: ফোন: 𝟎𝟏𝟔𝟎𝟖𝟔𝟗𝟕𝟖𝟗𝟗
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত