মোঃ আমিনুল ইসলামঃ
কুমিল্লার বরুড়ায় মোবাইল ফোন উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলায় বাদী ও সাক্ষী নির্ধারণের প্রক্রিয়া, এজাহারে ঘটনাস্থল উল্লেখ এবং আসামিপক্ষের পরিবারের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবু সাঈদ। তাঁর দাবি, ভুক্তভোগীর সম্মতি নিয়েই মামলা করা হয়েছে এবং বাদীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সাক্ষীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মামলার বাদী হিসেবে উল্লেখিত তাওহীদুল ইসলাম (২১) দাবি করেছেন, তিনি মামলা করতে চাননি; মোবাইল ফোন ফেরত পেলেই চলে যেতেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের পরিবারের অভিযোগ, আসামিদের ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে তাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল।
মোবাইল ফোন উদ্ধারের ঘটনা
এজাহার ও বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, তাওহীদুল ইসলামের মোবাইল ফোন কেনার কথা বলে তিন যুবক সেটি নিয়ে যায়। পরে তাঁকে টাকা না দিয়ে চলে যেতে বলা হয়। তাওহীদুলের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে ভৈষখলা চায়ের দোকানের সামনে। তবে এজাহারে ঘটনাস্থল হিসেবে বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের রাস্তার কথা উল্লেখ রয়েছে। ফলে ঘটনার প্রকৃত স্থান ও এজাহারে উল্লেখ করা স্থানের মধ্যে অমিল দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
এজাহারে উল্লেখ রয়েছে, ২০ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে বরুড়া থানা পুলিশের নিয়মিত টহলের সময় তিনজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে তাওহীদুলের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। এ ঘটনায় বরুড়া থানায় ২১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ১৪ নম্বর মামলা নথিভুক্ত করা হয়। মামলার বাৎসরিক নম্বর ২১৩। এজাহারে অপরাধের শিরোনাম হিসেবে ‘দস্যুতা সংগঠন’ উল্লেখ রয়েছে। মামলায় প্রথম আসামি মো. গালিব ওরফে সায়েম, দ্বিতীয় আসামি সানজিদ হাসান সিপাত এবং তৃতীয় আসামি জাবের মাহমুদের নাম উল্লেখ রয়েছে।
বাদী ও সাক্ষী নির্ধারণ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য
তাওহীদুলের অভিযোগ, মোবাইল ফোন উদ্ধারের পর পুলিশ তাঁকে ফোনটি নিয়ে যাওয়ার জন্য থানায় আসতে বলে। পরদিন তিনি আবদুল্লাহ হাসান (২৮) নামের এক ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে থানায় যান। আবদুল্লাহ তাঁর বড় ভাই সাংবাদিক রাসেল হোসেনকেও সঙ্গে নেন।
সাংবাদিক রাসেল হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, থানায় গিয়ে তিনি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবু সাঈদের সঙ্গে পরিচিত হন এবং তাঁদের সহযোগিতা করার অনুরোধ করেন। পরে ব্যস্ততার কারণে তিনি কুমিল্লায় চলে যান। পরবর্তী সময়ে জানতে পারেন, তাঁর ভাই আবদুল্লাহ ও তাঁকে মামলার সাক্ষী করা হয়েছে। তাঁদের সম্মতি নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে, তাওহীদুলের দাবি, তিনি মামলা করতে রাজি ছিলেন না। তাঁকে বলা হয়েছিল, পুলিশ বাদী হয়েছে, তাই তাঁকে স্বাক্ষর দিতে হবে। পরে তিনি জানতে পারেন, মামলায় তাঁকেই বাদী করা হয়েছে। তিনি একটি বেসরকারি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন এবং মাসে পাঁচ হাজার টাকা বেতন পান বলে জানান। মামলা পরিচালনার ব্যয় বহন করা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবু সাঈদ বলেন, “ভিক্টিমের অনুমতি নিয়েই বাদী করে মামলা নেওয়া হয়েছে। তাঁদের সম্মতিক্রমে ভিডিও বক্তব্য নেওয়া আছে। এখন তাঁরা কী কারণে অস্বীকার করছেন, তা আমার জানা নেই।” সাক্ষী নির্ধারণের বিষয়ে তিনি বলেন, “বাদীর তথ্য অনুযায়ী সাক্ষীদের নাম দেওয়া হয়েছে।”
বাদীর বয়স ২১ বছর উল্লেখ করে এসআই আবু সাঈদ বলেন, মামলা নেওয়ার আগে তাঁর অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ করার প্রয়োজন নেই।
অর্থ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার পুলিশের
এদিকে, আসামিপক্ষের পরিবারের অভিযোগ, মামলার শুরুতে আসামিদের ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে দ্বিতীয় আসামি সানজিদ হাসান সিপাত ও তৃতীয় আসামি জাবের মাহমুদের পরিবারের কাছ থেকে মোট ৭৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। জাবের মাহমুদের মাথে থাকা ১০ হাজার টাকা এবং দুইটি মোবাইল রেখে দেওয়া হয়। পরে মামলা দায়ের করা হলে তাঁরা টাকা ফেরত চান। তাঁদের দাবি, তৃতীয় আসামি জাবের মাহমুদের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। বাকি টাকা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে আসামিদের রিমান্ডে এনে মারধর করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। আসামিদের আদালতে প্রেরনের সময় তাদের সাথে থাকা টাকা এবং নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ দেখানো হয়নি।
তবে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবু সাঈদ। তাঁর বক্তব্য, আসামিপক্ষের পরিবারের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।
সম্পাদক : মোঃ জহির , উপদেষ্টা : জসিম উদ্দিন খোকন ,বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ: ফোন: 𝟎𝟏𝟔𝟐𝟗𝟏𝟎𝟎𝟗𝟐𝟔
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন বিভাগ: ফোন: 𝟎𝟏𝟔𝟎𝟖𝟔𝟗𝟕𝟖𝟗𝟗
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত