অনলাইন ডেক্স
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আজ (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ত্রৈমাসিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বাজেট বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছেন। প্রতিবেদনে আয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভে উন্নতি এবং ধীরে ধীরে ম্যাক্রোইকোনমিক স্থিতিশীলতার দিকে এগোনোর বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে, যা বৈশ্বিক ও দেশীয় চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও অর্জিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রথম ত্রৈমাসিকে মোট রাজস্ব আয় ১৭.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে বৃদ্ধি ছিল ৪.৪ শতাংশ। সরকারি মোট ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে ১০ শতাংশ, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৪ শতাংশ।
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন প্রথম ত্রৈমাসিকে মোট বরাদ্দের ৪.৫৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ৩.৯৭ শতাংশ ছিল।
অর্থমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ২৪.৮৬ বিলিয়ন থেকে ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩১.৪৩ বিলিয়ন ডলারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাহ্যিক স্থিতিশীলতার উন্নতি নির্দেশ করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম ত্রৈমাসিকে রপ্তানি আয় ৫.২৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আমদানি ব্যয় ৯.৪৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি ৯.৪৫ শতাংশে অবস্থান করেছে, যা আগের বছরের ৯.৯৭ শতাংশের তুলনায় সামান্য কম।
অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সঙ্কট ও বৈশ্বিক রাজনৈতিক উত্তেজনা রপ্তানিতে প্রভাব ফেলেছে। তবে দেশের অর্থনীতি সংস্কার উদ্যোগ, নীতি সমন্বয় এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির মাধ্যমে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছে।
তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে শুল্ক বাধা, প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, উচ্চ সুদের হার এবং অভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতা রপ্তানি, বেসরকারি খাতের ঋণ বৃদ্ধির এবং বিনিয়োগে চাপ সৃষ্টি করছে, এবং রাজস্ব আহরণে কিছু ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
মুদ্রাস্ফীতি প্রত্যাশিত হারে কমছে না, যা সরবরাহ শৃঙ্খল সীমাবদ্ধতা, বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং বহিরাগত প্রভাবের কারণে হয়েছে। তবে কৃষি, রপ্তানিমুখী শিল্প এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য লক্ষ্য ভিত্তিক ঋণ সহায়তা অব্যাহত আছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা, প্রচুর শ্রমশক্তি এবং উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধিই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে সহায়তা করছে। তিনি নীতি ধারাবাহিকতা, প্রতিষ্ঠান সক্ষমতা বৃদ্ধি, সুশাসন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, রপ্তানি বৈচিত্র্য এবং প্রযুক্তি ভিত্তিক উৎপাদনের ওপর জোর দিয়েছেন।
অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন, বাংলাদেশ সব চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে পারবে এবং সমন্বিত প্রচেষ্টা ও বাস্তবসম্মত সংস্কার কর্মসূচির মাধ্যমে ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হবে।
সুত্র যুগান্তর
সম্পাদক : মোঃ জহির , উপদেষ্টা : জসিম উদ্দিন খোকন ,বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ: ফোন: 𝟎𝟏𝟔𝟐𝟗𝟏𝟎𝟎𝟗𝟐𝟔
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন বিভাগ: ফোন: 𝟎𝟏𝟔𝟎𝟖𝟔𝟗𝟕𝟖𝟗𝟗
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত