
পোস্টাল ব্যালট ও ম্যাজিস্ট্রেটদের ভাতা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, বঞ্চিত ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা
কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রেজা হাসান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে সংসদ নির্বাচনের বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ এনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটের সংখ্যায় সারা দেশে শীর্ষে ছিল কুমিল্লা জেলা। এখানে প্রায় ৮১ হাজার পোস্টাল ব্যালট জমা পড়ে, যা প্রায় ২০টি ভোটকেন্দ্রের মোট ভোটার সংখ্যার সমান। এ বিপুল সংখ্যক ব্যালট গ্রহণ, স্ক্যানিং এবং সংরক্ষণের কাজে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের বড় একটি অংশকে প্রায় এক মাস দিন-রাত পরিশ্রম করতে হয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, এ কাজে বরাদ্দকৃত অর্থ তাদের দেওয়া হয়নি।
এদিকে জেলার ১৭টি উপজেলায় আচরণবিধি প্রতিপালনের জন্য ২ জন করে মোট ৩৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের কথা থাকলেও ম্যাজিস্ট্রেট সংকটের কারণে ডিসি অফিসের ১২ জন ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ১৪ জনসহ মোট ২৬ জনকে প্রায় দুই মাস দায়িত্ব পালন করতে হয়। কিন্তু বরাদ্দপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নির্বাচন কমিশন থেকে ৩৪ জন ম্যাজিস্ট্রেটের জন্য বরাদ্দকৃত সম্পূর্ণ অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ম্যাজিস্ট্রেটদের আপ্যায়ন বাবদ ৯০ হাজার টাকা এবং জ্বালানি খাতে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ থাকলেও তাদের হাতে মাত্র ২০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসকের বাংলোতে ডেকে জোরপূর্বক পুরো টাকা গ্রহণের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া দুই মাস ধরে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করলেও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তাদের জ্বালানি বাবদ বরাদ্দকৃত ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার কোনো অর্থ তাদের পরিশোধ করা হয়নি।
অন্যদিকে ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারী মোবাইল কোর্টের প্রতিটি পেশকারের জন্য বরাদ্দকৃত ২২ হাজার ৫০০ টাকাও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এ ঘটনায় প্রশাসনের ভেতরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে।