
মোঃ আরিফুল ইসলাম ফারহান
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার উপকূলীয় দ্বীপাঞ্চল নিঝুমদ্বীপ জাতীয় উদ্যান—যা একসময় হরিণ, পাখি ও প্রাকৃতিক বনাঞ্চলের জন্য পরিচিত ছিল—সেই বনভূমির বড় অংশ এখন দখল ও স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে আলোচনায়। স্থানীয়দের দাবি, সংরক্ষিত সরকারি বন উজাড় করে বসতবাড়ী ও দোকানঘর নির্মাণ করা হচ্ছে প্রকাশ্যেই, আর এর পেছনে রয়েছে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ছত্রছায়া।
সরাসরি অনুসন্ধানে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিঝুমদ্বীপের ছোয়াখালী, বাধের খালের আগা, হরিণ বাজার, ডুবাইর খাল ও চর মহিত এলাকায় গাছ কেটে জমি দখলের ঘটনা ঘটেছে। অনেক স্থানে নতুন টিনশেড ঘর ও দোকান নির্মাণ দেখা গেছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“রাতের অন্ধকারে গাছ কাটা হয়। কয়েক দিনের মধ্যেই সেখানে ঘর উঠে যায়। কেউ বাধা দিতে গেলে প্রভাবশালীদের নাম বলা হয়।”
চর মহিত এলাকা নিয়ে রয়েছে আলাদা বিতর্ক। জানা গেছে, একসময় সরকারিভাবে এ চর বন্দোবস্ত দেওয়া হলেও পরবর্তীতে প্রশাসন প্রাথমিকভাবে সেই বন্দোবস্ত স্থগিত রাখে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, সরকারি বাধা উপেক্ষা করে প্রভাবশালী একটি মহল জোরপূর্বক দখল নিয়ে সেখানে বাড়ি ও দোকান নির্মাণ করেছে।
এ ঘটনায় সাবেক চেয়ারম্যান মেহরাজ এবং ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বিএনপি-এর কিছু নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে ছত্রছায়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যদিও অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
জাহাজমারা রেঞ্জের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদ প্রমাণিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,
“এসব বিষয়ে মামলা চলমান রয়েছে।”
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, মামলা চলমান থাকলেও বাস্তবে বন উজাড় বন্ধ হয়নি। কয়েকজন দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তার অবগতির মধ্যেই দখল প্রক্রিয়া চলছে। যদিও এ অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো লিখিত বা আনুষ্ঠানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিঝুমদ্বীপ উপকূলীয় প্রাকৃতিক ভারসাম্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি পাখির আবাসস্থল ও হরিণের নিরাপদ বিচরণভূমি হিসেবে পরিচিত। অব্যাহত বন উজাড় হলে—
*জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হবে
*উপকূলীয় ভাঙন ও ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি বাড়বে
*পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে স্থানীয়দের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে—সংরক্ষিত জাতীয় উদ্যান রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ কোথায়?স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত, দখলদারদের তালিকা প্রকাশ এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত কঠোর পদক্ষেপ না নিলে নিঝুমদ্বীপ জাতীয় উদ্যান ধীরে ধীরে অস্তিত্ব হারাবে।