1. live@bntv24live.com : BN TV 24LIVE : BN TV 24LIVE
  2. info@www.bntv24live.com : BN TV 24LIVE :
মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪২ পূর্বাহ্ন

দিনাজপুরে ঘোড়ার গাড়িতে ১২ কিমি পথ পাড়ি দিয়ে অধ্যক্ষের রাজকীয় বিদায়

প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২১ বার পড়া হয়েছে
34

অনলাইন ডেক্স

 

ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের দীর্ঘদিনের চেনা আঙিনায় আজ ছিল কান্নার রোল আর ভালোবাসার সংমিশ্রণ। ইট-পাথরের দেয়ালগুলো যেন সাক্ষী হয়ে রইল এক বিরল বিদায় সংবর্ধনার।

সোমবার (০৬ এপ্রিল) সকালে কলেজের প্রিয় অধ্যক্ষ প্রফেসর খন্দকার মো. হুমায়ুন রেজা কবীরকে অবসরজনিত বিদায় জানাতে গিয়ে এক ব্যতিক্রমী ও হৃদয়স্পর্শী আয়োজন করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। প্রথাগত বিদায় নয়, বরং ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে রাজকীয় সম্মানে তাঁকে পৌঁছে দেওয়া হলো তাঁর নিজ বাসভবনে।

২৯ বছরের এক অবিস্মরণীয় যাত্রা ১৯৬৭ সালে জন্মগ্রহণকারী এই গুণী শিক্ষকের নাড়ির টান এই কলেজের সাথেই। এখান থেকেই শুরু হয়েছিল তাঁর ছাত্রজীবন। পরবর্তীতে দীর্ঘ ১৮ বছর শিক্ষকতা এবং শেষ এক বছর অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আজ তিনি কর্মজীবনের ইতি টানলেন। ২৯ বছরের বর্ণাঢ্য এই ক্যারিয়ারে তিনি কেবল একজন প্রশাসক ছিলেন না, ছিলেন হাজারো শিক্ষার্থীর আলোকবর্তিকা।

অনুষ্ঠান শেষে দেখা যায় এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। কলেজের সব বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে অধ্যক্ষকে একটি সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে তোলা হয়। ফুলবাড়ী কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তাঁকে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার পূর্ব জগন্নাথপুর গ্রামে তাঁর নিজ বাসভবনে পৌঁছে দেওয়া হয়। ফুলবাড়ীর ইতিহাসে কোনো শিক্ষকের এমন বিদায়ী সম্মান আগে কখনো দেখেনি স্থানীয়রা।

বিদায় বেলায় আবেগ ধরে রাখতে পারেননি এই কর্মবীর। অশ্রুসিক্ত নয়নে তিনি বলেন, “এই কলেজই আমার পরিচয়। এখানে আমি ছাত্র হিসেবে শিখেছি, আবার শিক্ষক হিসেবে বিলিয়েছি। তোমাদের এই ভালোবাসাই আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি।”
অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আমিনুল ইসলামসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতে, স্যার ছিলেন গরিব ও অসহায় শিক্ষার্থীদের শেষ ভরসা। যেকোনো সমস্যায় তাঁর কাছে গেলে কেউ খালি হাতে ফিরত না। সহকর্মী শিক্ষকরাও তাঁকে ‘নীতির প্রশ্নে আপসহীন এক অভিভাবক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক মো. সাইফুদ্দীন এমরানের সঞ্চালনায় ও উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আহসান হাবীবের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বিদায় সভায় কলেজের শতাধিক শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। সভায় তাঁর সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও মানবিক গুণাবলির স্মৃতিচারণ করা হয়।

ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের করিডোরে হয়তো আর নিয়মিত দেখা যাবে না এই চেনা মুখটি, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শ আর ১২ কিলোমিটারের এই রাজকীয় যাত্রার স্মৃতি কলেজের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। বিরামপুরের নিজ গ্রামে ফিরলেও তিনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন হাজারো শিক্ষার্থীর হৃদয়ে

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!