মোঃ আরিফুল ইসলাম ফারহান স্টাফ রিপোটার
নোয়াখালীর হাতিয়া থানার সার্কেল অফিসার নুরুল আনোয়ারের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, জব্দকৃত মালামাল অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া, অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আইন প্রয়োগে পক্ষপাতিত্ব করার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি এসব অভিযোগ গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে পৌঁছালে অনুসন্ধান ও প্রাথমিক তথ্য যাচাইয়ে অভিযোগগুলোর সত্যতা প্রতীয়মান হয়েছে ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্টের পর হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আমতলী বাজার এলাকায় সংঘটিত একটি ধর্ষণ মামলার আসামি মিরাজকে গ্রেপ্তারের সময় সে হ্যান্ডকাপ পরিহিত অবস্থায় পুলিশ সদস্যদের মারধর করে পালিয়ে যায়। তবে ওই সময় মিরাজের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ঘটনাস্থলে থাকলেও পুলিশ তা জব্দ না করেই চলে যায়।
পরবর্তীতে মিরাজ জেল হাজতে থাকাকালীন তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি এক বন্ধুর কাছে গচ্ছিত রাখে। মিরাজ জেল খেটে জামিনে মুক্ত হয়ে মোটরসাইকেলটি ফেরত চাইলে বন্ধুর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এতে এলাকায় উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হলে বিষয়টি সার্কেল অফিসারের নজরে আসে। সে সময় হাতিয়া থানার ওসি অনুপস্থিত থাকায় সার্কেল অফিসার নুরুল আনোয়ার এসআই ফারুককে মোটরসাইকেলটি জব্দ করার নির্দেশ দেন।
নির্দেশনা অনুযায়ী এসআই ফারুক মোটরসাইকেলটি থানায় জব্দ করে রেখে ছুটিতে যান। অভিযোগ রয়েছে, এর কিছুদিন পর সার্কেল অফিসার নুরুল আনোয়ার বিষয়টি নিয়ে মিরাজের কাছে মোটা অংকের অর্থ দাবি করেন। কিন্তু মিরাজের কাছে তখন পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় সে হাতিয়ার সেন্টার বাজারের সেলিম নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে এসআই আরিফের সহায়তায় ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে সার্কেলকে না জানিয়ে সমঝোতা করে জব্দকৃত মোটরসাইকেলটি ছাড়িয়ে নেয়।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—পুলিশের ওপর হামলার মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত একজন আসামিকে কীভাবে অর্থের বিনিময়ে জব্দকৃত, লাইসেন্স ও বৈধ কাগজপত্রবিহীন মোটরসাইকেল ফেরত দেওয়া হলো?
এ বিষয়ে মিরাজ ও মধ্যস্থতাকারী সেলিম উভয়েই অর্থের বিনিময়ে মোটরসাইকেল ছাড়িয়ে নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন । তাদের কথোপকথনের কল রেকর্ডসহ একাধিক তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে।
এদিকে, ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম ফারহান হাতিয়া থানার সার্কেল অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি সংবাদ প্রকাশে নিষেধ করেন এবং কিছুদিন সময় দেওয়ার অনুরোধ জানান। পরবর্তীতে তিনি নিজের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে একজন স্থানীয় বিএনপি নেতার সঙ্গে সাংবাদিককে যোগাযোগ করিয়ে দিয়ে সংবাদটি প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন।
এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে, হাতিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ আলীর ম্যানেজার দুলাল বাবুর কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ গ্রহণ করে তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলো আমলে না নিয়ে বরং তাকে নানাভাবে সুবিধা দিয়ে যাচ্ছেন সার্কেল অফিসার নুরুল আনোয়ার। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক এমপি মোঃ আলী কারাগারে থাকা অবস্থায়ও দুলাল বাবুর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করছেন। একই সঙ্গে দুলাল বাবু হাতিয়ায় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মীকে অর্থ দিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠনকে সক্রিয় রাখার ভূমিকা পালন করছেন।
স্থানীয় সূত্রগুলো আরও জানায়, সার্কেল অফিসার নুরুল আনোয়ার দুলাল বাবুসহ আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে আপোষমূলক আচরণ করে চলছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না।সাবেক এমপি মোঃ আলীর বডিগার্ড আলাউদ্দিন এখন সার্কেল অফিসারেরও বডিগার্ড।
অভিযুক্ত সেলিম একজন আওয়ামীপন্থী ব্যক্তি। তার এক সন্তান পুলিশে চাকরি করেন—এই পরিচয় ব্যবহার করে তিনি থানায় প্রভাব বিস্তার করে থাকেন। একাধিকবার বিষয়টি জানানো হলেও সার্কেল অফিসার সেলিমসহ অন্যান্য দালালদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাতিয়া থানাকে দালালমুক্ত করার পরিবর্তে সার্কেল অফিসার নিজেই বিভিন্ন পক্ষ থেকে অবৈধ সুবিধা বা ‘মাশোয়ারা’ গ্রহণ করে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। কেউ কোনো অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি করতে গেলে ন্যূনতম ২ হাজার টাকা দিতে হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি কোনো মামলা বা অভিযোগের আসামি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ না করলে সেই অভিযোগ তার বিপক্ষে যাওয়ার নজিরও রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
এ বিষয়ে হাতিয়া থানার বর্তমান অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম - নতুন যোগদান করায় তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এলাকার সচেতন মহলের প্রশ্ন, একজন দায়িত্বশীল সার্কেল অফিসার কীভাবে এতো অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন? তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে নোয়াখালী পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শক্তিশালী হেডলাইন দাও
সম্পাদক : মোঃ জহির , উপদেষ্টা : জসিম উদ্দিন খোকন ,বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ: ফোন: 𝟎𝟏𝟔𝟐𝟗𝟏𝟎𝟎𝟗𝟐𝟔
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন বিভাগ: ফোন: 𝟎𝟏𝟔𝟎𝟖𝟔𝟗𝟕𝟖𝟗𝟗
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত