
কচুয়া (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:
কচুয়া উপজেলার আশ্রাফপুর ইউনিয়নের একাধিক এলাকায় দিন ও রাত মিলিয়ে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে ফসলি জমির মাটি কাটা চলছে। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এসব কর্মকাণ্ড চলায় এলাকাবাসী আতঙ্কে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। অথচ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশ্রাফপুর ইউনিয়নের খাজুরিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রায় ২০০–৩০০ গজ পূর্ব দিকে গেলে একটি উত্তরমুখী সড়ক রয়েছে। ওই সড়ক দিয়ে আরও আনুমানিক ২০০ গজ অগ্রসর হলে খাজুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ২০০ গজ পূর্ব পাশে দিনের আলোতেই ফসলি জমি ও আশপাশের এলাকায় অবৈধভাবে ভেকু দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে।
এদিকে আশ্রাফপুর ইউনিয়নের চক্রা গ্রামেও একই চিত্র দেখা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, চক্রা গ্রামের মুন্সিবাড়ির উত্তর পাশে দিনের আলোতে প্রকাশ্যে ভেকু দিয়ে ফসলি জমির মাটি কাটা চলছে। এতে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া আশ্রাফপুর ইউনিয়নের চকরা উত্তর মাঠের মুন্সিবাড়ির উত্তর পাশেও দিনের আলোতে অবৈধ ভেকু দিয়ে মাটি কাটার অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, আশ্রাফপুর পশ্চিম চাঙ্গিনী এলাকায় শাহ আলম মার্কেটের পূর্ব পাশে ফসলি জমি নষ্ট করে অবৈধভাবে ভেকু দিয়ে মাটি কাটার ঘটনাও চলছে বলে স্থানীয়রা জানান। এতে জমির উর্বরতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এছাড়াও রাতের আঁধারেও থেমে নেই এই অবৈধ কর্মকাণ্ড। অভিযোগ রয়েছে, মেসার্স খাজা ফিলিং এন্ড অটো গ্যাস স্টেশনের প্রায় ২০০ গজ উত্তর পাশে ফসলি জমিতে গভীর রাতে প্রায় চার ফুট গভীর করে মাটি কাটা হচ্ছে। এর ফলে আশপাশের একাধিক ফসলি জমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ছে।
সূত্র বলছে, অবৈধ মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতরা অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকার কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না। ভয়ভীতি ও নানা ধরনের চাপের কারণে সাধারণ মানুষ নীরব থাকতে বাধ্য হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতি বছর নিয়মিতভাবে এভাবে মাটি কেটে নেওয়ার ফলে আশপাশের প্রায় সব ফসলি জমি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে, ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং কৃষকরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এতে পুরো এলাকার কৃষি ব্যবস্থা আজ হুমকির মুখে পড়েছে।
এ বিষয়ে কচুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে একাধিকবার অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন—দিনের আলো ও রাতের আঁধারে প্রকাশ্যে অবৈধ কর্মকাণ্ড চললেও প্রশাসনের এই নীরবতা কি প্রভাবশালীদেরই প্রশ্রয় দিচ্ছে? তারা দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কচুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে মুঠোফোনে অবগত করা হলেও সংবাদ প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।
পাট ২ আসতেছে