মফিজুল ইসলাম বাবুল, কচুয়া:
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার গোহট দক্ষিণ ইউনিয়নের দরিগোবিন্দপুর গাউছুল আজম জামে মসজিদের উন্নয়ন তহবিলের অর্থের হিসাব চাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুই পক্ষই কচুয়া থানায় পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বাদ জুমা মসজিদ প্রাঙ্গণে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মসজিদের উন্নয়ন তহবিলে জমা হওয়া অর্থের হিসাব মসজিদ কমিটির সভাপতি বিল্লাল হোসেন গাজীর কাছে চাইলে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে আলী আজম, কামাল হোসেন গাজী ও আনোয়ার হোসেন গাজী গুরুতর আহত হয়ে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্য আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
মসজিদের মুসল্লি ও কমিটির সদস্য দিদার গাজী অভিযোগ করে বলেন, মসজিদ কমিটির সভাপতি বিল্লাল হোসেন গাজীর কাছে মসজিদের অনুদান তহবিলে জমা থাকা ৩৩ হাজার টাকার হিসাব চাওয়া হয়। তিনি ২০ হাজার টাকা ব্যয়ের হিসাব দেখালেও বাকি ১৩ হাজার টাকার হিসাব দিতে পারেননি। এ নিয়ে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে সভাপতির লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে মুসল্লি আজম আলী, হৃদয় হোসেন, আরিফুল ইসলাম, জিলানী ও আলী হোসেন আহত হন। তাদের মধ্যে আজম আলী গুরুতর আহত হয়ে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পরদিন শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে বাড়ির পাশে আমার ছোট ভাইকে দোকানের কাছে একা পেয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন মারধর করে। পাশাপাশি আমাকে যেখানে পাবে সেখানে হামলার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। এতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম সরওয়ার জানান, মসজিদের আয়-ব্যয়ের হিসাব সভাপতির কাছে চাইতে গেলে মুসল্লিদের সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হামলার ঘটনা ঘটে।
অন্যদিকে, মসজিদ কমিটির সভাপতি বিল্লাল হোসেন গাজী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মসজিদ ফান্ডের ১৩ হাজার টাকা তার কাছে জমা রয়েছে। এছাড়া মসজিদ সংস্কারের জন্য তিনি প্রায় ৫০ হাজার টাকার মালামাল ক্রয় করেছেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।
এ বিষয়ে স্থানীয় মুসল্লি বাবুল গাজী বলেন, মসজিদের অনুদান তহবিলে ১৩ হাজার টাকা ছিল। ওই টাকাসহ সভাপতির ভাইয়ের কাছ থেকে আরও ২০ হাজার টাকা নিয়ে মসজিদ সংস্কারের জন্য ৪ হাজার ইট ক্রয় করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন এলাকার মুসল্লিরা।
এ বিষয়ে কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আজিজুল ইসলাম জানান, উভয় পক্ষের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ছবি: কচুয়ায় মসজিদের তহবিলের টাকা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুরুতর আহতরা।
সম্পাদক : মোঃ জহির , উপদেষ্টা : জসিম উদ্দিন খোকন ,বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ: ফোন: 𝟎𝟏𝟔𝟐𝟗𝟏𝟎𝟎𝟗𝟐𝟔
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন বিভাগ: ফোন: 𝟎𝟏𝟔𝟎𝟖𝟔𝟗𝟕𝟖𝟗𝟗
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত