প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ২৭, ২০২৬, ৯:০৪ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ২৭, ২০২৬, ৮:৫৩ পি.এম
কচুয়ায় পুরনো প্রেমের জের ধরে রক্তক্ষয়ী হামলার অভিযোগ, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
শান্তু ধর, কচুয়া প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার কড়ইয়া ইউনিয়নের নলুয়া গ্রামে পূর্বের প্রেমের সম্পর্কের বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় সুমন (৩০) নামে এক যুবক গুরুতর আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার নলুয়া গ্রামের ইজারা বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
আহত সুমন ওই গ্রামের মৃত লিয়াকত আলীর ছেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর আহতের বোন রোজিনা আক্তার বাদী হয়ে কচুয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি একই গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে আব্দুল আউয়ালকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
বাদীর অভিযোগ
মামলার এজাহারে রোজিনা আক্তার উল্লেখ করেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে পূর্বের প্রেমের সম্পর্ক ও মোবাইল ফোনে কথাবার্তা নিয়ে আব্দুল আউয়াল তাদের বাড়ির সামনে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। বিষয়টি জানতে চাইলে আব্দুল আউয়াল, আল আমিন ও ইসমাইল হোসেন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সুমনের ওপর হামলা চালান।
অভিযোগে বলা হয়, একপর্যায়ে আব্দুল আউয়ালের হাতে থাকা লোহার শাবল দিয়ে আঘাত করলে শাবলের ধারালো অংশ সুমনের নাকে লেগে গুরুতর জখম হয়। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার স্ত্রী ইতি বেগমকেও মারধর করা হয়। এ সময় তার পরনে থাকা স্বর্ণালংকার টানাহেঁচড়া করে নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদীপক্ষ আরও জানায়, প্রায় তিন বছর আগে সুমনের সঙ্গে আব্দুল আউয়ালের বোন রিতা আক্তারের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে দুই পরিবারের সম্মতি না থাকায় দুই বছর আগে রিতা আক্তারের বিয়ে পাশের হাজীগঞ্জ উপজেলার গরশ্বর গ্রামের ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে হয়। এরপর সুমনও অন্যত্র বিয়ে করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি রিতা আক্তার ইচ্ছাকৃতভাবে সুমনের স্ত্রী ইতি আক্তারের ইমো নম্বরে ফোন করে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এরই জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে দাবি বাদীপক্ষের।
অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য
এদিকে অভিযুক্ত আব্দুল আউয়ালের মা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সুমন তার মেয়েকে বিভিন্নভাবে বিরক্ত করে আসছিলেন। বিয়ের আগে ও পরে রিতা আক্তারকে নিয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার ও গুজব ছড়ানো হয়। এমনকি একাধিকবার তার মেয়ের বিয়ে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, রিতা আক্তারের বিয়ের পরও সুমন তার সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করতে নানা ধরনের মিথ্যা তথ্য ও গুজব ছড়িয়েছেন। এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হয়েছে এবং সুমনকে সতর্কও করা হয়েছিল।
পুলিশের বক্তব্য
কচুয়া থানা পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি আব্দুল আউয়ালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, ঘটনার কারণ ও অভিযোগ নিয়ে উভয় পক্ষই ভিন্ন ভিন্ন দাবি করেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন এবং তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে।
সম্পাদক : মোঃ জহির , উপদেষ্টা : জসিম উদ্দিন খোকন ,বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ: ফোন: 𝟎𝟏𝟔𝟐𝟗𝟏𝟎𝟎𝟗𝟐𝟔