অনলাইন ডেস্ক
স্থানীয় সরকার নির্বাচন অক্টোবরে আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন আয়োজনে ব্যালট বাক্স, প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার প্রস্তুত আছে। ভোটার তালিকাও চূড়ান্ত হয়ে আছে। তবে নির্বাচন আয়োজনে বাজেট কিছুটা কমানো যায় কি না- সেটা নিয়েও ভাবছে সাংবিধানিক এই সংস্থাটি।
ইসির স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি বিষয়ক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে এসব আলোচনা হয়েছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে রবিবার বেলা ১১টা থেকে বিকেল পৌনে ৪টা পর্যন্ত এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। চার নির্বাচন কমিশনার এবং ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন নির্বাচন কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন।
বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক কর্মকর্তা জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন-কানুন ও আচরণবিধির খসড়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ সময় প্রণয়নের অপেক্ষায় থাকা আচরণবিধির খসড়া চূড়ান্ত করতে রাজনৈতিক দলসহ অংশিজনদের মতামত পাওয়ার ১৫ দিনের মতো সময় লাগতে পারে বলে জানানো হয়। স্থানীয় সরকারের পৃথক পাঁচ ধরনের নির্বাচনের জন্য খসড়া আচরণ বিধিমালা ইতোমধ্যে ইসির ওয়েবসাইটে আপলোড করেছে। ৩০ জুনের মধ্যে এসব নিয়ে মতামত দিতে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আলাদা চিঠিও পাঠানো হয়েছে বলে সমকাল এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়ায় ভোটকেন্দ্র ও কক্ষের সংখ্যা বাড়বে বলে জানানো হয়। বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়। তবে সবকিছুই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে মত দেওয়া হয়। এছাড়া ভোটগ্রহণের আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি হিসেবে ভোটার তালিকা ও নির্বাচনী সরঞ্জামসহ অন্যান্য পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। ভোটগ্রহণের ব্যয় যথাসম্ভব কমানোর ওপর জোর দেন নির্বাচন কমিশনাররা।
বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে অক্টোবরকে লক্ষ্য ধরে কাজ এগুচ্ছে ইসি। আর অক্টোবরে হলে এর ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে। আমরা মূলত অক্টোবর ধরে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।
বৈঠকের আলোচনার বিষয় নিয়ে তিনি বলেন, সব ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া বিষয়ে কমিশন অবহিত হয়েছে। ৪ হাজার ৫০০ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজন করতে হলে কোনটা আগে বা কোনটা পরে করব তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন আয়োজনের জন্য সব জিনিসপত্র প্রস্তুত আছে কি না— সেটাও অবহিত করা হয়েছে। তবে কোনো সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।
সামগ্রিক প্রস্তুতি নিয়ে এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, গত নির্বাচনের চেয়ে কিছু ভোটকেন্দ্র বাড়াতে হবে। জাতীয় নির্বাচনের পরপর এ স্থানীয় নির্বাচন হওয়ায় আমাদের ব্যালট বাক্স প্রস্তুত। প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার নিয়োগ হবে এসবের প্রস্তুতিও আছে।
তিনি জানান, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হলেও নতুন কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যাও কিছুটা বাড়তে পারে। আমরা এটা নিয়েও প্রাথমিক আলোচনা করেছি। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা না করে কোনো সিদ্ধান্ত আমরা নেবো না। আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, এবারের স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলো হবে নির্দলীয়, অর্থাৎ নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের ব্যবহার থাকছে না। তারপরও আমরা মনে করছি, যেহেতু রাজনৈতিক দলগুলো আমাদের সমাজের প্রতিনিধিত্ব করে। কাজেই ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছাই হোক, নির্দলীয় নির্বাচনে তারাও ইনভলভ থাকবেই। এই কারণেই তাদের কাছে মতামত জানতে চেয়েও চিঠি দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, অংশীজনের মতামত পাওয়ার পর সাধারণত ১৫ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত করা হয়। এ সময়ের মধ্যে আমরা করে ফেলতে পারব। আমরা আইন কানুন দেখেছি। রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সাংবাদিকসহ যেকেউ ওপর মতামত দিতে পারবেন এবং সবার গ্রহণযোগ্য মতামত নিয়ে খসড়া আচরণ বিধিমালায় সংযোজন-বিয়োজন আনা হবে বলে জানান এ নির্বাচন কমিশনার।
সম্পাদক : মোঃ জহির , উপদেষ্টা : জসিম উদ্দিন খোকন ,বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ: ফোন: 𝟎𝟏𝟔𝟐𝟗𝟏𝟎𝟎𝟗𝟐𝟔
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন বিভাগ: ফোন: 𝟎𝟏𝟔𝟎𝟖𝟔𝟗𝟕𝟖𝟗𝟗
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত